শিরোনাম

সচেতনতাই বাঁচাতে পারে হাজারো প্রাণ

অমিত কুমার মন্ডল
সচেতনতাই বাঁচাতে পারে হাজারো প্রাণ
আমাদের সকলের সচেতনতাই পারে ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে। ছবি: এআই

ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের আনন্দ বহুলাংশে ফিকে হয়ে যায় সড়ক দুর্ঘটনার করাল গ্রাসে। প্রতি বছর ঈদের ছুটির সময় দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এর এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে ওঠে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্যমতে ঈদুল ফিতরে সারাদেশে মোট দুর্ঘটনা ঘটে ৩৪৩টির মতো। এতে ৩৫১ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৬ জন আহত হন। এ রেশ কাটতে না কাটতেই কোরবানির ঈদযাত্রায়ও রক্তক্ষরণ থামেনি। এবারের কোরবানির ঈদযাত্রায় ২১ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত মাত্র কয়েক দিনে সারাদেশে ১৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৩৮৯ জন আহত হয়েছেন। এ মৃত্যুর মিছিল ও আহতের সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাজারো পরিবারের কান্না ও আজীবনের পঙ্গুত্ব। অথচ একটু সচেতনতা আর নিয়মতান্ত্রিক পথ চলাই পারে ঈদ যাত্রায় হাজারো প্রাণ বাঁচাতে।

সড়ক দুর্ঘটনার এ ভয়াবহতা রোধে চালক, যাত্রী এবং পরিবহন মালিক সকল পক্ষকেই সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি। মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। চালকদের মানসিকতা পরিবর্তন করে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে হবে। দীর্ঘ রুটে ক্লান্ত ও ঘুমকাতুর চোখে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে দূরপাল্লার বাসে বিকল্প চালক রাখা বাধ্যতামূলক করা উচিত। পাশাপাশি, পরিবহন মালিকদেরও দায়িত্বহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মুনাফার লোভে ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি মহাসড়কে নামানো কোনোভাবেই সমীচীন নয়। ঈদে বাড়তি ট্রিপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনভিজ্ঞ চালক বা হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।

কেবল চালক বা মালিকদের ওপর দায় চাপিয়ে যাত্রীরা পার পেতে পারেন না। জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে কিংবা খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে চড়ে ঈদ যাত্রা করা এক প্রকার আত্মহত্যার শামিল। যেকোনো মূল্যে এ প্রবণতা পরিহার করতে হবে। এছাড়া মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা হেলমেট ছাড়া মহাসড়কে চলাচল করা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাড়াহুড়ো করে বাসের জানালা দিয়ে হাত বাড়ানো বা চলন্ত যানবাহনে ওঠার চেষ্টা বন্ধ করা আবশ্যক। ফেরি পারাপারের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে বাস থেকে নেমে ফেরির পাটাতনে অবস্থান করতে হবে।

অন্যদিকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোরও উচিত মহাসড়কে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, চালকদের ডোপ টেস্ট করা এবং স্পিড গানের মাধ্যমে গতি পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সচেতনতা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের জীবনের সুরক্ষাকবচ। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সামান্য একটু সচেতনতাই পারে আমাদের ঈদযাত্রাকে প্রকৃত আনন্দময় করে তুলতে।

/এমএকে/