কূটনীতিতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান: ইরান

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
কূটনীতিতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান: ইরান
ইরানের পতাকা হাতে একব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক ‌আলোচনাকেই একমাত্র কার্যকর উপায় বলে মনে করছে ইরান। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার তেহরানের দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি তেহরান।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সেই শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। এই অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।’

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে শান্তি কাতারের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছায় তেহরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধে ইরান ‘খুব খারাপভাবে হারছে’ এবং চাপে পড়েই চুক্তিতে আগ্রহী হয়েছে। তিনি তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

আরাঘচির বলেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান জানার অপেক্ষায় আছি। সেটির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের কড়াকড়ি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল অনেক কমেছে। এর মারাত্মক নেতিবাচক আঁচ লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান যে ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের শর্ত মানবে কিনা। এমনকি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র এর আগে দাবি করেছিল যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনা বেশ ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হয়েছে। এর মধ্যেই আবার সৌদি আরবের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে ইরান।

আরাঘচির ভাষ্যমতে, তাদের প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা গেলে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব এবং একই সঙ্গে চলমান সংঘাতও থামানো যেতে পারে । যুক্তরাষ্ট্র যদি এতে রাজি হয়, তবে পরবর্তীতে দুই পক্ষের পারস্পরিক অন্যান্য ইস্যু নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা শুরু হতে পারে।

তবে দেশের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ তেহরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা তা দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত, তবে কোনো ধরনের ‘চাপ বা জবরদস্তি’ তারা মেনে নেবে না। তার মতে, ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে হুমকি ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করবে।’

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে একদিকে যেমন ইরানের সামরিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে দেশটির অর্থনীতিও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/