ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কাঁচামাল সরবরাহ করছে চীন
সিটিজেন ডেস্ক

ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কাঁচামাল সরবরাহ করছে চীন
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ০২

দেশীয়ভাবে তৈরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান যখন পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, তখন গোটা মধ্যপ্রাচ্য কার্যত অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম জ্বালানি সংকট। তীব্র এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে ইরানকে গোপনে সহায়তা করছে চীন।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, চীন থেকে রাসায়নিক বহনকারী কয়েকটি জাহাজ ইতিমধ্যে ইরানে পৌঁছেছে, যা কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক সরবরাহ নয় বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্তত ৪টি ইরানি জাহাজ চীনের ঝুহাই শহরের গাওলান বন্দর থেকে রাসায়নিক নিয়ে ইরানের বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজগুলোতে জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান 'সোডিয়াম পারক্লোরেট' বহন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব, যা সংঘাতের এ পর্যায়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং মজুত পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে সিএনএন-কে দেওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা সত্ত্বেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে। ফলে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি তাদের উৎপাদনক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি, বরং বিকল্প উপায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইন গ্রুপের জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত নিখুঁত কৌশল অবলম্বন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য দেখানো এবং জাহাজের নাম পরিবর্তন করার মতো পদক্ষেপ। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেবল 'গোলবান' ও 'জাইরান' নামের দুটি জাহাজের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ইরান অন্তত ৭৮৫টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল হাতে পেয়ে থাকতে পারে। এর ফলে আগামী এক মাস তারা অনায়াসেই প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখতে পারবে।
আনুষ্ঠানিকভাবে চীন সরাসরি সামরিক সহায়তার কথা অস্বীকার করলেও, বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে তারা রাশিয়ার মতো ইরানকেও এ ধরনের কৌশলগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর মাধ্যমে তারা একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ এড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে নিজেদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের নিজস্ব বিপুল বিনিয়োগ থাকায়, একদিকে ইরানের হামলা এবং অন্যদিকে তাদের গোপন সহায়তা প্রদান সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলানো চীনের জন্য একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান যখন পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, তখন গোটা মধ্যপ্রাচ্য কার্যত অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম জ্বালানি সংকট। তীব্র এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে ইরানকে গোপনে সহায়তা করছে চীন।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, চীন থেকে রাসায়নিক বহনকারী কয়েকটি জাহাজ ইতিমধ্যে ইরানে পৌঁছেছে, যা কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক সরবরাহ নয় বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্তত ৪টি ইরানি জাহাজ চীনের ঝুহাই শহরের গাওলান বন্দর থেকে রাসায়নিক নিয়ে ইরানের বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজগুলোতে জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান 'সোডিয়াম পারক্লোরেট' বহন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব, যা সংঘাতের এ পর্যায়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং মজুত পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে সিএনএন-কে দেওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা সত্ত্বেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে। ফলে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি তাদের উৎপাদনক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি, বরং বিকল্প উপায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইন গ্রুপের জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত নিখুঁত কৌশল অবলম্বন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য দেখানো এবং জাহাজের নাম পরিবর্তন করার মতো পদক্ষেপ। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেবল 'গোলবান' ও 'জাইরান' নামের দুটি জাহাজের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ইরান অন্তত ৭৮৫টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল হাতে পেয়ে থাকতে পারে। এর ফলে আগামী এক মাস তারা অনায়াসেই প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখতে পারবে।
আনুষ্ঠানিকভাবে চীন সরাসরি সামরিক সহায়তার কথা অস্বীকার করলেও, বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে তারা রাশিয়ার মতো ইরানকেও এ ধরনের কৌশলগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর মাধ্যমে তারা একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ এড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে নিজেদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের নিজস্ব বিপুল বিনিয়োগ থাকায়, একদিকে ইরানের হামলা এবং অন্যদিকে তাদের গোপন সহায়তা প্রদান সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলানো চীনের জন্য একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কাঁচামাল সরবরাহ করছে চীন
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ০২

দেশীয়ভাবে তৈরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান যখন পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, তখন গোটা মধ্যপ্রাচ্য কার্যত অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম জ্বালানি সংকট। তীব্র এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে ইরানকে গোপনে সহায়তা করছে চীন।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, চীন থেকে রাসায়নিক বহনকারী কয়েকটি জাহাজ ইতিমধ্যে ইরানে পৌঁছেছে, যা কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক সরবরাহ নয় বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্তত ৪টি ইরানি জাহাজ চীনের ঝুহাই শহরের গাওলান বন্দর থেকে রাসায়নিক নিয়ে ইরানের বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজগুলোতে জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান 'সোডিয়াম পারক্লোরেট' বহন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব, যা সংঘাতের এ পর্যায়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং মজুত পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে সিএনএন-কে দেওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা সত্ত্বেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে। ফলে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি তাদের উৎপাদনক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি, বরং বিকল্প উপায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইন গ্রুপের জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত নিখুঁত কৌশল অবলম্বন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য দেখানো এবং জাহাজের নাম পরিবর্তন করার মতো পদক্ষেপ। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেবল 'গোলবান' ও 'জাইরান' নামের দুটি জাহাজের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ইরান অন্তত ৭৮৫টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল হাতে পেয়ে থাকতে পারে। এর ফলে আগামী এক মাস তারা অনায়াসেই প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখতে পারবে।
আনুষ্ঠানিকভাবে চীন সরাসরি সামরিক সহায়তার কথা অস্বীকার করলেও, বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে তারা রাশিয়ার মতো ইরানকেও এ ধরনের কৌশলগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর মাধ্যমে তারা একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ এড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে নিজেদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের নিজস্ব বিপুল বিনিয়োগ থাকায়, একদিকে ইরানের হামলা এবং অন্যদিকে তাদের গোপন সহায়তা প্রদান সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলানো চীনের জন্য একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
/এমএকে/




