শিরোনাম

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮২ শিশুসহ নিহত ৬১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮২ শিশুসহ নিহত ৬১৯
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির লোগো। ছবি : সংগৃহীত

সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত ও ১ হাজার ৫৪৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৭ জন চালক, ৯০ জন পথচারী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৮ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৭৮ জন নারী, ৮৬ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন আনসার সদস্য, ১ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫০ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু, ৬৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৪ জন শিক্ষক, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—

  • সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল
  • ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল
  • জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং এবং সড়কবাতির অভাব
  • রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা
  • সড়কের মিডিয়ানে ডিভাইডার না থাকা
  • অন্ধ বাঁকে গাছপালার কারণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা
  • মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি
  • যানবাহনের বিভিন্ন ত্রুটি
  • ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা
  • উল্টো পথে যান চলাচল
  • সড়কে চাঁদাবাজি
  • পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন
  • অদক্ষ চালক
  • ফিটনেসবিহীন যানবাহন
  • অতিরিক্ত যাত্রী বহন
  • বেপরোয়া গাড়ি চালানো
  • চালকদের অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সুপারিশগুলো হলো— সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু করা; মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস প্রদান; বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার নির্ধারিত ৬০ ঘণ্টার ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা।

/এসবি/