মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা
মোসাদ্দেকুর রহমান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রতিটি ধাক্কা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির নানা খাতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতও তার ব্যতিক্রম নয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো।
বিশ্ববাজারে এই জ্বালানি সংকটের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংকীর্ণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ—হরমুজ প্রণালি। আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই প্রণালি বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম সমুদ্রপথ । প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ হঠাৎ করেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তলেরে বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তত ৮৫টি দেশে ইতোমধ্যেই পেট্রোলের দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও এই বৃদ্ধি এতটাই দ্রুত হয়েছে যে সাধারণ মানুষ সরাসরি তার প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে।
উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথাই তুলে ধরা যায়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন-এএএ–এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে এক গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ২.৯৪ ডলার ছিল, সেখানে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৩.৫৮ ডলারে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে গ্যালন প্রতি দাম ৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে—যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানির খুচরা মূল্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু দেশে দাম আরও দ্রুত বেড়েছে। ভিয়েতনামে পেট্রলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া লাওসে পেট্রলের দাম ৩৩ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় প্রায় ১৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ দাম বেড়েছে।

এশিয়া বড় ঝুঁকিতে
এই সংকটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। কারণ তাদের অধিকাংশ জ্বালানির আমদানি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় আছে। জাপান তার প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জাপান ইতোমধ্যে তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া গত তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পেট্রল ও ডিজেলের ওপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বাড়তি দুর্ভোগ
পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি আরও কঠিন। কারণ এই অঞ্চলের অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং তাদের কৌশলগত জ্বালানি মজুদও তুলনামূলকভাবে কম।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানে সরকারি অফিসগুলোতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে এবং জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বাসা থেকে কাজ করার নীতিও চালু করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; তা সরাসরি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
বাড়ছে খাদ্যের দাম
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর বাজারেও পড়ে। কারণ কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে খাদ্য পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফসলি জমিতে ব্যবহৃত সার, কৃষিযন্ত্র , ফসল পরিবহন এবং খাদ্য সংরক্ষণ—প্রতিটি ধাপেই জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচও বাড়তে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিবহনই বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণশক্তি। পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটিই মূলত জ্বালানি নির্ভর। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে তা দ্রুত অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

স্ট্যাগফ্লেশনের আশঙ্কা
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। স্ট্যাগফ্লেশন এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে একই সঙ্গে তিনটি সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা, বেকারত্ব এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি।
ইতিহাস বলছে, তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকট, ১৯৭৮ সালের অস্থিরতা এবং ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ক্ষেত্রেও জ্বালানি তেলে দাম অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছিল।
তেল মানে শুধুই জ্বালানি নয়
অনেকেই মনে করেন তেল মূলত গাড়ি বা যানবাহন চালানোর জ্বালানি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাস্তবে তেলের ব্যবহার তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। দৈনন্দিন জীবনের হাজার হাজার পণ্য তৈরিতে তেল অপরিহার্য কাঁচামাল।
প্লাস্টিকের পানির বোতল, খাবারের প্যাকেজিং, মোবাইল ফোনের কেসিং কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম—সবই মূলত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য থেকে তৈরি। কাপড়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। পলিয়েস্টার, নাইলন ও অ্যাক্রিলিকের মতো সিনথেটিক তন্তু তৈরিতেও অপরিশোধিত তেল ব্যবহৃত হয়।
এ ছাড়া প্রসাধন শিল্পেও তেলের বড় ভূমিকা রয়েছে। ভ্যাসলিন ও লিপস্টিকের মতো পণ্য তৈরিতেও পেট্রোলিয়ামজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়। গৃহস্থালী পণ্যের মধ্যে ডিটারজেন্ট, ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং বিভিন্ন ধরনের রঙ তৈরিতেও তেলের প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের বাজারে এই অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা কাটবে না। কারণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এখনও এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ আবারও প্রমাণ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কখনোই শুধু আঞ্চলিক থাকে না। তার ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। জ্বালানি তেলের বাজারের বর্তমান অস্থিরতা সেই বাস্তবতারই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ। যদি যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হয়, তবে এই জ্বালানি ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রতিটি ধাক্কা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির নানা খাতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতও তার ব্যতিক্রম নয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো।
বিশ্ববাজারে এই জ্বালানি সংকটের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংকীর্ণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ—হরমুজ প্রণালি। আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই প্রণালি বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম সমুদ্রপথ । প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ হঠাৎ করেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তলেরে বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তত ৮৫টি দেশে ইতোমধ্যেই পেট্রোলের দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও এই বৃদ্ধি এতটাই দ্রুত হয়েছে যে সাধারণ মানুষ সরাসরি তার প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে।
উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথাই তুলে ধরা যায়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন-এএএ–এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে এক গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ২.৯৪ ডলার ছিল, সেখানে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৩.৫৮ ডলারে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে গ্যালন প্রতি দাম ৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে—যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানির খুচরা মূল্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু দেশে দাম আরও দ্রুত বেড়েছে। ভিয়েতনামে পেট্রলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া লাওসে পেট্রলের দাম ৩৩ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় প্রায় ১৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ দাম বেড়েছে।

এশিয়া বড় ঝুঁকিতে
এই সংকটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। কারণ তাদের অধিকাংশ জ্বালানির আমদানি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় আছে। জাপান তার প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জাপান ইতোমধ্যে তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া গত তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পেট্রল ও ডিজেলের ওপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বাড়তি দুর্ভোগ
পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি আরও কঠিন। কারণ এই অঞ্চলের অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং তাদের কৌশলগত জ্বালানি মজুদও তুলনামূলকভাবে কম।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানে সরকারি অফিসগুলোতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে এবং জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বাসা থেকে কাজ করার নীতিও চালু করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; তা সরাসরি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
বাড়ছে খাদ্যের দাম
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর বাজারেও পড়ে। কারণ কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে খাদ্য পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফসলি জমিতে ব্যবহৃত সার, কৃষিযন্ত্র , ফসল পরিবহন এবং খাদ্য সংরক্ষণ—প্রতিটি ধাপেই জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচও বাড়তে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিবহনই বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণশক্তি। পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটিই মূলত জ্বালানি নির্ভর। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে তা দ্রুত অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

স্ট্যাগফ্লেশনের আশঙ্কা
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। স্ট্যাগফ্লেশন এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে একই সঙ্গে তিনটি সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা, বেকারত্ব এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি।
ইতিহাস বলছে, তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকট, ১৯৭৮ সালের অস্থিরতা এবং ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ক্ষেত্রেও জ্বালানি তেলে দাম অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছিল।
তেল মানে শুধুই জ্বালানি নয়
অনেকেই মনে করেন তেল মূলত গাড়ি বা যানবাহন চালানোর জ্বালানি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাস্তবে তেলের ব্যবহার তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। দৈনন্দিন জীবনের হাজার হাজার পণ্য তৈরিতে তেল অপরিহার্য কাঁচামাল।
প্লাস্টিকের পানির বোতল, খাবারের প্যাকেজিং, মোবাইল ফোনের কেসিং কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম—সবই মূলত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য থেকে তৈরি। কাপড়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। পলিয়েস্টার, নাইলন ও অ্যাক্রিলিকের মতো সিনথেটিক তন্তু তৈরিতেও অপরিশোধিত তেল ব্যবহৃত হয়।
এ ছাড়া প্রসাধন শিল্পেও তেলের বড় ভূমিকা রয়েছে। ভ্যাসলিন ও লিপস্টিকের মতো পণ্য তৈরিতেও পেট্রোলিয়ামজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়। গৃহস্থালী পণ্যের মধ্যে ডিটারজেন্ট, ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং বিভিন্ন ধরনের রঙ তৈরিতেও তেলের প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের বাজারে এই অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা কাটবে না। কারণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এখনও এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ আবারও প্রমাণ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কখনোই শুধু আঞ্চলিক থাকে না। তার ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। জ্বালানি তেলের বাজারের বর্তমান অস্থিরতা সেই বাস্তবতারই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ। যদি যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হয়, তবে এই জ্বালানি ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা
মোসাদ্দেকুর রহমান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রতিটি ধাক্কা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির নানা খাতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতও তার ব্যতিক্রম নয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো।
বিশ্ববাজারে এই জ্বালানি সংকটের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংকীর্ণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ—হরমুজ প্রণালি। আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই প্রণালি বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম সমুদ্রপথ । প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ হঠাৎ করেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তলেরে বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তত ৮৫টি দেশে ইতোমধ্যেই পেট্রোলের দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও এই বৃদ্ধি এতটাই দ্রুত হয়েছে যে সাধারণ মানুষ সরাসরি তার প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে।
উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথাই তুলে ধরা যায়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন-এএএ–এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে এক গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ২.৯৪ ডলার ছিল, সেখানে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৩.৫৮ ডলারে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে গ্যালন প্রতি দাম ৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে—যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানির খুচরা মূল্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু দেশে দাম আরও দ্রুত বেড়েছে। ভিয়েতনামে পেট্রলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া লাওসে পেট্রলের দাম ৩৩ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় প্রায় ১৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ দাম বেড়েছে।

এশিয়া বড় ঝুঁকিতে
এই সংকটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। কারণ তাদের অধিকাংশ জ্বালানির আমদানি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় আছে। জাপান তার প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জাপান ইতোমধ্যে তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া গত তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পেট্রল ও ডিজেলের ওপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বাড়তি দুর্ভোগ
পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি আরও কঠিন। কারণ এই অঞ্চলের অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং তাদের কৌশলগত জ্বালানি মজুদও তুলনামূলকভাবে কম।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানে সরকারি অফিসগুলোতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে এবং জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বাসা থেকে কাজ করার নীতিও চালু করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; তা সরাসরি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
বাড়ছে খাদ্যের দাম
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর বাজারেও পড়ে। কারণ কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে খাদ্য পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফসলি জমিতে ব্যবহৃত সার, কৃষিযন্ত্র , ফসল পরিবহন এবং খাদ্য সংরক্ষণ—প্রতিটি ধাপেই জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচও বাড়তে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিবহনই বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণশক্তি। পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটিই মূলত জ্বালানি নির্ভর। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে তা দ্রুত অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

স্ট্যাগফ্লেশনের আশঙ্কা
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। স্ট্যাগফ্লেশন এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে একই সঙ্গে তিনটি সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা, বেকারত্ব এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি।
ইতিহাস বলছে, তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকট, ১৯৭৮ সালের অস্থিরতা এবং ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ক্ষেত্রেও জ্বালানি তেলে দাম অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছিল।
তেল মানে শুধুই জ্বালানি নয়
অনেকেই মনে করেন তেল মূলত গাড়ি বা যানবাহন চালানোর জ্বালানি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাস্তবে তেলের ব্যবহার তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। দৈনন্দিন জীবনের হাজার হাজার পণ্য তৈরিতে তেল অপরিহার্য কাঁচামাল।
প্লাস্টিকের পানির বোতল, খাবারের প্যাকেজিং, মোবাইল ফোনের কেসিং কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম—সবই মূলত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য থেকে তৈরি। কাপড়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। পলিয়েস্টার, নাইলন ও অ্যাক্রিলিকের মতো সিনথেটিক তন্তু তৈরিতেও অপরিশোধিত তেল ব্যবহৃত হয়।
এ ছাড়া প্রসাধন শিল্পেও তেলের বড় ভূমিকা রয়েছে। ভ্যাসলিন ও লিপস্টিকের মতো পণ্য তৈরিতেও পেট্রোলিয়ামজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়। গৃহস্থালী পণ্যের মধ্যে ডিটারজেন্ট, ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং বিভিন্ন ধরনের রঙ তৈরিতেও তেলের প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের বাজারে এই অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা কাটবে না। কারণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এখনও এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ আবারও প্রমাণ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কখনোই শুধু আঞ্চলিক থাকে না। তার ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। জ্বালানি তেলের বাজারের বর্তমান অস্থিরতা সেই বাস্তবতারই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ। যদি যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হয়, তবে এই জ্বালানি ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।




