শিরোনাম

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার

সিটিজেন ডেস্ক
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার। একইসঙ্গে রাজ্য থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবার (২০ মে) রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক দপ্তর নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, তোষণনীতির কারণে আগের সরকার চাইলেও অরক্ষিত ৫৫৫ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করেনি। উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই রয়েছে ২২০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার থাকলেও বাকি ৬০০ কিলোমিটার ছিল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। বর্তমান সরকার বিএসএফের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে রাজ্য ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে রাজ্য সরকারের নতুন পদক্ষেপের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিএএর আওতাভুক্ত ৭টি সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ এ রাজ্যে এসেছেন, পুলিশ তাদের কোনোভাবেই হয়রানি বা আটক করবে না। তবে যারা এই আইনের অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আগের সরকার ২০২৫ সালের ১৪ মে জারি করা কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অমান্য করলেও, বর্তমান সরকার আজ থেকেই তা কার্যকর করছে। নতুন নীতি অনুযায়ী রাজ্য পুলিশ এসব অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে এবং পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট প্রক্রিয়ায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

দেশের এবং রাজ্যের স্বার্থে সীমান্ত সংলগ্ন সব থানায় এ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রশাসনিক নজরদারি ও তৎপরতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এখন থেকে রাজ্য সরকার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ করবে এবং এসব এলাকায় নিয়মিত প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস

/এমএকে/