কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি

কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগামী শনি বা রবিবার পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এমন পরিস্থিতিতে কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল চলছে আলোচনা।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে বিএনপির ভেতরে চলছে নানা পর্যায়ে আলোচনা। শুরুতে দলটির বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে। প্রশাসনিক দক্ষতা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা অর্জনের বিষয়গুলো তার নাম আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমার জানা নেই।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়াও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ওই চুক্তিভিত্তিক সচিবের নাম এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করবেন বলেও জানা গেছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুধু সাংবিধানিক দায়িত্বই নয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। সরকার, বিরোধী দল এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সক্ষমতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা-এসব বিষয়কে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ফলে এই নিয়োগ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের সমর্থনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি ওঠে নানা মহলে। এ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির পদে কোনো পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে ভিন্নতা তৈরি হয়। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে অপসারণ বা পদত্যাগে বাধ্য করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও সরকার কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কখনো রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করা হয়নি।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগামী শনি বা রবিবার পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এমন পরিস্থিতিতে কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল চলছে আলোচনা।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে বিএনপির ভেতরে চলছে নানা পর্যায়ে আলোচনা। শুরুতে দলটির বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে। প্রশাসনিক দক্ষতা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা অর্জনের বিষয়গুলো তার নাম আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমার জানা নেই।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়াও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ওই চুক্তিভিত্তিক সচিবের নাম এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করবেন বলেও জানা গেছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুধু সাংবিধানিক দায়িত্বই নয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। সরকার, বিরোধী দল এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সক্ষমতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা-এসব বিষয়কে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ফলে এই নিয়োগ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের সমর্থনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি ওঠে নানা মহলে। এ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির পদে কোনো পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে ভিন্নতা তৈরি হয়। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে অপসারণ বা পদত্যাগে বাধ্য করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও সরকার কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কখনো রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করা হয়নি।

কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগামী শনি বা রবিবার পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এমন পরিস্থিতিতে কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল চলছে আলোচনা।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে বিএনপির ভেতরে চলছে নানা পর্যায়ে আলোচনা। শুরুতে দলটির বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে। প্রশাসনিক দক্ষতা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা অর্জনের বিষয়গুলো তার নাম আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমার জানা নেই।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়াও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ওই চুক্তিভিত্তিক সচিবের নাম এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করবেন বলেও জানা গেছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুধু সাংবিধানিক দায়িত্বই নয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। সরকার, বিরোধী দল এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সক্ষমতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা-এসব বিষয়কে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ফলে এই নিয়োগ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের সমর্থনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি ওঠে নানা মহলে। এ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির পদে কোনো পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে ভিন্নতা তৈরি হয়। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে অপসারণ বা পদত্যাগে বাধ্য করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও সরকার কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কখনো রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করা হয়নি।

শনি বা রবিবার পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সরকারের কিছু করার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী







