শিরোনাম

‘সুইসটেল’ হোটেল কিনছে পূবালী ব্যাংক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
‘সুইসটেল’ হোটেল কিনছে পূবালী ব্যাংক
ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আর্থিক সংকটে পড়ে ঋণের বোঝা কমাতে নির্মাণাধীন ২৭ তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘সুইস টাওয়ার’ বিক্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ। রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে নির্মাণাধীন ভবনটি ৮০০ কোটি টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। ভবনটি তেজগাঁও লিংক রোড হয়ে গুলশান ১ নম্বরের প্রবেশপথে প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত। ভবনটিতে আন্তর্জাতিক তারকা চেইন হোটেল সুইসটেল হওয়ার কথা ছিল।

বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই ভবন কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে ব্যাংক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে পূবালী ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮০০ কোটি টাকায় সুইস টাওয়ার ভবনটি কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে। প্রায় ৫৮ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন ২৭ তলা ভবনটির ৩ তলা বেজমেন্ট, অর্থাৎ মাটির নিচে। ভবনটি কেনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এই ভবনে ব্যাংকটি তাদের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করবে। বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিলে নিজস্ব ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ব্যাংকঋণ শোধে ভবনটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ। এই ভবন নির্মাণে গ্রুপটি বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও দেশি প্রতিষ্ঠান ইডকল থেকে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। এর বাইরে গ্রুপটির অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে। ভবনটি বিক্রি করে সেসব ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে বেঙ্গল গ্রুপের।

তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে সুইসটেল হোটেল করার কথা ছিল। ভবনের মূল কাঠামো এরই মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। ৩৭০টি হোটেলকক্ষ হওয়ার কথা ছিল ভবনটিতে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেঙ্গল গ্রুপের তিনটি কারখানা পুড়ে যায়। এতে গ্রুপটি আর্থিক সংকটে পড়ে। ফলে ভবনটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভবনটি বিক্রি করতে পারলে বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ পরিশোধ করবে বলেও জানা গেছে।

পূবালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মতিঝিলে নিজস্ব যে ভবনে ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেটিতে সবমিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার বর্গফুট জায়গা। তাতে ব্যাংকটির চাহিদা অনুযায়ী স্থান সংকুলান হচ্ছে না। এ কারণে নতুন জায়গা খুঁজছিল ব্যাংকটি। গতকাল ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন, আমরা অনেকদিন থেকেই নতুন ভবন খুঁজছিলাম। সবকিছু মিলে যাওয়ায় সুইস টাওয়ার ভবনটি কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, এ বিনিয়োগ দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের জন্য লাভজনক।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বেসরকারি খাতের বেশির ভাগ ব্যাংক এখন গুলশানমুখী। একসময় দিলকুশা ও মতিঝিলকেন্দ্রিক ছিল বেশির ভাগ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। গত এক দশকে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। দেশের বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশানে নিজেদের প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নিয়েছে।

/এসবি/