শিরোনাম

নির্বাচনে হারের পর পুরোনো পেশায় মমতা

সিটিজেন ডেস্ক
নির্বাচনে হারের পর পুরোনো পেশায় মমতা
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক ব্যস্ততা আর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পর, নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে পুরোনো পেশায় ফিরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে চেনা কালো কোট আর গাউন গায়ে আইনজীবীর পোশাকে মমতাকে দেখে আদালত চত্বরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।

জননেত্রীর তকমা সরিয়ে রেখে এদিন তিনি সওয়াল করতে দাঁড়িয়েছিলেন ভোট পরবর্তী সহিংসতার শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের বিচার চেয়ে। আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত মমতা যে ১৯৮৫ সাল থেকেই আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত, সেই পরিচয়কেই এদিন তিনি প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন।

সকাল থেকেই কালীঘাটের বাসভবনের সামনে ছিল কৌতূহলী ভিড়। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি যখন আইনজীবীর পোশাকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠেন, তখন থেকেই শুরু হয় নতুন জল্পনা। আদালতে পৌঁছে তিনি সরাসরি এজলাসে প্রবেশ করেন। মামলার শুনানির এক পর্যায়ে মমতা আদালতকে জানান, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নন, বরং দীর্ঘদিনের একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। তার বক্তব্যে ফুটে ওঠে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সহিংসতায় বহু নিরীহ মানুষকে ঘরছাড়া করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু এবং তফসিলি জাতির মানুষদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি আদালতকে জানান।

মামলার বিবরণে উঠে আসে এক ভয়ংকর চিত্র, যেখানে নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়গুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মমতার সফরসঙ্গী ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, বহু জায়গায় বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে। এ অরাজকতা রুখতে এবং ঘরছাড়া মানুষদের ঘরে ফেরাতে আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেন তারা। আদালত প্রাঙ্গণে মমতাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভিড় থাকলেও, তিনি আইনি লড়াইয়ের গাম্ভীর্য বজায় রেখে ব্যক্তিগত কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। নির্বাচনী হারের পর তার আইনজীবী হিসেবে ফিরে আসা একদিকে যেমন আইনি লড়াইকে শক্তিশালী করেছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

/এমএকে/