যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ
সিটিজেন জার্নাল

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ
সিটিজেন জার্নাল
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ২২

লন্ডন স্কুল ফর ইকোনমিক্সের ছাত্র বিক্ষোভকারীরা বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা হরাসের নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিরা। ছবি: আল জাজিরা
যুক্তরাজ্যের অন্তত ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী, বিক্ষোভকারী ও শিক্ষাবিদদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাকে অর্থ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, প্রাক্তন সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরিচালিত হরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিথি বক্তাদের বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে।
তদন্তে বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হরাসকে মোট ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯শত ৪৩ পাউন্ড দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের একটি ‘শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা’ সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়।
এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), কিংস কলেজ লন্ডন, শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়, কার্ডিফ মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স (এলএসই) এবং ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি।
আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পর এসব তথ্য সামনে আসে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হরাসের সরবরাহ করা ব্রিফিংয়ের কপি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কেউ কেউ সেগুলোকে ‘গোপনীয়’ বা ‘বাণিজ্যিকভাবে সংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করে।
তদন্তে বলা হয়েছে, নজরদারির আওতায় ছিলেন এলএসই’র এক ফিলিস্তিনপন্থী পিএইচডি শিক্ষার্থী, ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আমন্ত্রিত এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীরা।
এলএসই-তে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদী শিবিরে অংশ নেওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থী লিজি হব্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টও হরাসের ব্রিফিংয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা টিমের কাছে পাঠানো এক রিপোর্টে তার এক্স পোস্ট তুলে ধরা হয়। হব্স আল জাজিরাকে বলেন, তারা আগেই অনুমান করেছিলেন যে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে, ‘কিন্তু এটি যে এতটা সুসংগঠিত, তা দেখে আমরা হতবাক’।
তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিক্ষাবিদ রাবাব ইব্রাহিম আব্দুলহাদি। ২০২৩ সালে গাজায় নিহত ব্রিটিশ ছাত্র টম হার্নডালের স্মরণে আয়োজিত এক বক্তৃতায় অংশ নিতে তাকে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু নথি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটির আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে একটি গোপন সন্ত্রাসবিরোধী ‘হুমকি মূল্যায়ন’ করতে হরাসকে দায়িত্ব দেয়।
পরে হরাস একটি ছয় পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করে, যেখানে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও অতীতের কিছু অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। আব্দুলহাদি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ থাকার কথা। কিন্তু তারা আমার গবেষণা ও অবস্থানের কারণে আগেভাগেই আমাকে সন্দেহ করেছে।’
তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে আসে যে, যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়।
ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কেও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও শহরজুড়ে প্রতিবাদী তৎপরতা পর্যবেক্ষণের জন্য হরাসকে অন্তত ৮,৭০০ পাউন্ড দেয়। অভ্যন্তরীণ ইমেল অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকটি গোষ্ঠীর বিষয়ে সতর্কতা বার্তা পেতে চেয়েছিল, যাদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী এবং পশু অধিকারকর্মী গোষ্ঠীও ছিল।
যদিও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভিযোগ পুরোপুরি মানতে রাজি নয়। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, তারা বড় আকারের আসন্ন বিক্ষোভের মতো বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে বাহ্যিক সেবা নিয়েছিল, কিন্তু এর উদ্দেশ্য আন্দোলন নিরুৎসাহিত করা নয়। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনও জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্তে প্রকাশ্য উৎসের তথ্য ব্যবহার করেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি চালাতে নয়।
ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বলেছে, বহিরাগত বক্তাদের অনুষ্ঠানের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নে তারা নিয়মিতভাবে পটভূমি যাচাই করে। তবে অক্সফোর্ড, ইউসিএল, কিংস কলেজ লন্ডন, লেস্টার ও নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট-কর্নেল জোনাথন হোয়াইটলি। ২০২০ সালে এর নেতৃত্বে যুক্ত হন কর্নেল টিম কলিন্স। প্রতিষ্ঠানটি ‘ইনসাইট’ নামে একটি সেবা দেয়, যার মাধ্যমে ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়। তারা দাবি করে, ২০২২ সাল থেকে এসব কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করছে।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার জিনা রোমেরো এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ে ‘গভীর আইনি উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্সের আড়ালে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করলে তদারকিহীন বেসরকারি সংস্থাগুলো বিপুল তথ্য হাতে পেয়ে যায়, যা পরবর্তীতে অনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বৃহত্তম সংগঠন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন (ইউসিইউ)-এর সাধারণ সম্পাদক জো গ্র্যাডি এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই কার্যক্রম সরাসরি অবৈধ, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভকারীদের তালিকা তৈরি এবং অতিথি বক্তাদের গোপনে ঝুঁকি মূল্যায়ন করার মতো পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
সব মিলিয়ে, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের ওপর নজরদারি চালানো হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার নামে নেওয়া এসব পদক্ষেপ কি ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণের উপায় হয়ে উঠছে, সেটিই এখন মূল বিতর্ক।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাজ্যের অন্তত ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী, বিক্ষোভকারী ও শিক্ষাবিদদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাকে অর্থ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, প্রাক্তন সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরিচালিত হরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিথি বক্তাদের বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে।
তদন্তে বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হরাসকে মোট ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯শত ৪৩ পাউন্ড দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের একটি ‘শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা’ সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়।
এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), কিংস কলেজ লন্ডন, শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়, কার্ডিফ মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স (এলএসই) এবং ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি।
আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পর এসব তথ্য সামনে আসে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হরাসের সরবরাহ করা ব্রিফিংয়ের কপি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কেউ কেউ সেগুলোকে ‘গোপনীয়’ বা ‘বাণিজ্যিকভাবে সংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করে।
তদন্তে বলা হয়েছে, নজরদারির আওতায় ছিলেন এলএসই’র এক ফিলিস্তিনপন্থী পিএইচডি শিক্ষার্থী, ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আমন্ত্রিত এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীরা।
এলএসই-তে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদী শিবিরে অংশ নেওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থী লিজি হব্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টও হরাসের ব্রিফিংয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা টিমের কাছে পাঠানো এক রিপোর্টে তার এক্স পোস্ট তুলে ধরা হয়। হব্স আল জাজিরাকে বলেন, তারা আগেই অনুমান করেছিলেন যে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে, ‘কিন্তু এটি যে এতটা সুসংগঠিত, তা দেখে আমরা হতবাক’।
তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিক্ষাবিদ রাবাব ইব্রাহিম আব্দুলহাদি। ২০২৩ সালে গাজায় নিহত ব্রিটিশ ছাত্র টম হার্নডালের স্মরণে আয়োজিত এক বক্তৃতায় অংশ নিতে তাকে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু নথি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটির আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে একটি গোপন সন্ত্রাসবিরোধী ‘হুমকি মূল্যায়ন’ করতে হরাসকে দায়িত্ব দেয়।
পরে হরাস একটি ছয় পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করে, যেখানে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও অতীতের কিছু অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। আব্দুলহাদি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ থাকার কথা। কিন্তু তারা আমার গবেষণা ও অবস্থানের কারণে আগেভাগেই আমাকে সন্দেহ করেছে।’
তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে আসে যে, যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়।
ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কেও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও শহরজুড়ে প্রতিবাদী তৎপরতা পর্যবেক্ষণের জন্য হরাসকে অন্তত ৮,৭০০ পাউন্ড দেয়। অভ্যন্তরীণ ইমেল অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকটি গোষ্ঠীর বিষয়ে সতর্কতা বার্তা পেতে চেয়েছিল, যাদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী এবং পশু অধিকারকর্মী গোষ্ঠীও ছিল।
যদিও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভিযোগ পুরোপুরি মানতে রাজি নয়। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, তারা বড় আকারের আসন্ন বিক্ষোভের মতো বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে বাহ্যিক সেবা নিয়েছিল, কিন্তু এর উদ্দেশ্য আন্দোলন নিরুৎসাহিত করা নয়। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনও জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্তে প্রকাশ্য উৎসের তথ্য ব্যবহার করেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি চালাতে নয়।
ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বলেছে, বহিরাগত বক্তাদের অনুষ্ঠানের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নে তারা নিয়মিতভাবে পটভূমি যাচাই করে। তবে অক্সফোর্ড, ইউসিএল, কিংস কলেজ লন্ডন, লেস্টার ও নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট-কর্নেল জোনাথন হোয়াইটলি। ২০২০ সালে এর নেতৃত্বে যুক্ত হন কর্নেল টিম কলিন্স। প্রতিষ্ঠানটি ‘ইনসাইট’ নামে একটি সেবা দেয়, যার মাধ্যমে ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়। তারা দাবি করে, ২০২২ সাল থেকে এসব কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করছে।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার জিনা রোমেরো এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ে ‘গভীর আইনি উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্সের আড়ালে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করলে তদারকিহীন বেসরকারি সংস্থাগুলো বিপুল তথ্য হাতে পেয়ে যায়, যা পরবর্তীতে অনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বৃহত্তম সংগঠন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন (ইউসিইউ)-এর সাধারণ সম্পাদক জো গ্র্যাডি এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই কার্যক্রম সরাসরি অবৈধ, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভকারীদের তালিকা তৈরি এবং অতিথি বক্তাদের গোপনে ঝুঁকি মূল্যায়ন করার মতো পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
সব মিলিয়ে, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের ওপর নজরদারি চালানো হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার নামে নেওয়া এসব পদক্ষেপ কি ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণের উপায় হয়ে উঠছে, সেটিই এখন মূল বিতর্ক।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ
সিটিজেন জার্নাল
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ২২

লন্ডন স্কুল ফর ইকোনমিক্সের ছাত্র বিক্ষোভকারীরা বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা হরাসের নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিরা। ছবি: আল জাজিরা
যুক্তরাজ্যের অন্তত ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী, বিক্ষোভকারী ও শিক্ষাবিদদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাকে অর্থ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, প্রাক্তন সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরিচালিত হরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিথি বক্তাদের বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে।
তদন্তে বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হরাসকে মোট ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯শত ৪৩ পাউন্ড দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের একটি ‘শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা’ সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়।
এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), কিংস কলেজ লন্ডন, শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়, কার্ডিফ মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স (এলএসই) এবং ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি।
আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পর এসব তথ্য সামনে আসে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হরাসের সরবরাহ করা ব্রিফিংয়ের কপি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কেউ কেউ সেগুলোকে ‘গোপনীয়’ বা ‘বাণিজ্যিকভাবে সংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করে।
তদন্তে বলা হয়েছে, নজরদারির আওতায় ছিলেন এলএসই’র এক ফিলিস্তিনপন্থী পিএইচডি শিক্ষার্থী, ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আমন্ত্রিত এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীরা।
এলএসই-তে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদী শিবিরে অংশ নেওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থী লিজি হব্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টও হরাসের ব্রিফিংয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা টিমের কাছে পাঠানো এক রিপোর্টে তার এক্স পোস্ট তুলে ধরা হয়। হব্স আল জাজিরাকে বলেন, তারা আগেই অনুমান করেছিলেন যে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে, ‘কিন্তু এটি যে এতটা সুসংগঠিত, তা দেখে আমরা হতবাক’।
তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিক্ষাবিদ রাবাব ইব্রাহিম আব্দুলহাদি। ২০২৩ সালে গাজায় নিহত ব্রিটিশ ছাত্র টম হার্নডালের স্মরণে আয়োজিত এক বক্তৃতায় অংশ নিতে তাকে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু নথি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটির আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে একটি গোপন সন্ত্রাসবিরোধী ‘হুমকি মূল্যায়ন’ করতে হরাসকে দায়িত্ব দেয়।
পরে হরাস একটি ছয় পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করে, যেখানে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও অতীতের কিছু অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। আব্দুলহাদি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ থাকার কথা। কিন্তু তারা আমার গবেষণা ও অবস্থানের কারণে আগেভাগেই আমাকে সন্দেহ করেছে।’
তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে আসে যে, যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়।
ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কেও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও শহরজুড়ে প্রতিবাদী তৎপরতা পর্যবেক্ষণের জন্য হরাসকে অন্তত ৮,৭০০ পাউন্ড দেয়। অভ্যন্তরীণ ইমেল অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকটি গোষ্ঠীর বিষয়ে সতর্কতা বার্তা পেতে চেয়েছিল, যাদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী এবং পশু অধিকারকর্মী গোষ্ঠীও ছিল।
যদিও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভিযোগ পুরোপুরি মানতে রাজি নয়। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, তারা বড় আকারের আসন্ন বিক্ষোভের মতো বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে বাহ্যিক সেবা নিয়েছিল, কিন্তু এর উদ্দেশ্য আন্দোলন নিরুৎসাহিত করা নয়। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনও জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্তে প্রকাশ্য উৎসের তথ্য ব্যবহার করেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি চালাতে নয়।
ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বলেছে, বহিরাগত বক্তাদের অনুষ্ঠানের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নে তারা নিয়মিতভাবে পটভূমি যাচাই করে। তবে অক্সফোর্ড, ইউসিএল, কিংস কলেজ লন্ডন, লেস্টার ও নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট-কর্নেল জোনাথন হোয়াইটলি। ২০২০ সালে এর নেতৃত্বে যুক্ত হন কর্নেল টিম কলিন্স। প্রতিষ্ঠানটি ‘ইনসাইট’ নামে একটি সেবা দেয়, যার মাধ্যমে ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়। তারা দাবি করে, ২০২২ সাল থেকে এসব কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করছে।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার জিনা রোমেরো এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ে ‘গভীর আইনি উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্সের আড়ালে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করলে তদারকিহীন বেসরকারি সংস্থাগুলো বিপুল তথ্য হাতে পেয়ে যায়, যা পরবর্তীতে অনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বৃহত্তম সংগঠন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন (ইউসিইউ)-এর সাধারণ সম্পাদক জো গ্র্যাডি এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই কার্যক্রম সরাসরি অবৈধ, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভকারীদের তালিকা তৈরি এবং অতিথি বক্তাদের গোপনে ঝুঁকি মূল্যায়ন করার মতো পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
সব মিলিয়ে, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের ওপর নজরদারি চালানো হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার নামে নেওয়া এসব পদক্ষেপ কি ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণের উপায় হয়ে উঠছে, সেটিই এখন মূল বিতর্ক।
সূত্র: আল জাজিরা
/এমআর/




