শিরোনাম

কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ১৩

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ১৩
রুশ হামলার পর একটি গ্যারেজে গাড়িতে আগুন লেগে যায়

বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যৌথ তাণ্ডবে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। গভীর রাতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই একাধিক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। হামলায় বাসাবাড়ি ও গুদামঘর ছাড়াও একটি শিশু হাসপাতাল এবং স্কুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কিয়েভ অঞ্চলের বিশাল এলাকা অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতে রাশিয়া মোট ১৬৮টি ড্রোন এবং ৪৪টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪৬টি ড্রোন ও ৩৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব হয়নি। কিয়েভ ও তার আশপাশে প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশটির প্রধানমন্ত্রী এবং স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস এ তথ্য নিশ্চিত করে।

এ বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মিত্রদের কাছ থেকে দ্রুত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আকুতি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ইউক্রেনের কাছে পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকা পর্যন্ত রাশিয়া শান্তির কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভাববে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ইউক্রেন অনেকটাই নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে নতুন সরবরাহ পাচ্ছে না তারা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে ইউক্রেনে সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে।

আকাশ প্রতিরক্ষার করুণ দশা নিয়ে ইউক্রেনের সংসদ সদস্য ওলেক্সি হনচারেঙ্কো উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া ইউক্রেন কার্যত কিছুই করতে পারছে না। সেই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে শহরগুলো ‘সম্পূর্ণ অরক্ষিত’ হয়ে পড়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/