শিরোনাম

‘ফেরার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো’, সেউতায় হাজারো অভিবাসীর বিক্ষোভ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
‘ফেরার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো’, সেউতায় হাজারো অভিবাসীর বিক্ষোভ
স্পেনের সেউতায় অভিবাসীরা স্প্যানিশ পতাকা ও আশ্রয়ের আবেদন জানিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছেন। ছবি: রয়টার্স

স্পেনের ছিটমহল সেউতার এল ট্রাম্পোলিন সৈকতে মরক্কো থেকে আসা অভিবাসীরা বিক্ষোভ করেছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) বিক্ষোভে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের কাছে মরক্কোতে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে তাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দুই সপ্তাহ আগে আকস্মিক গণ সীমান্ত পারাপারের পর প্রায় ৮০ হাজার জনসংখ্যার এ ভূখণ্ডে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ ঢুকে পড়েছিল। পরবর্তীতে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও এখনো সেখানে ৫ থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন। শহরের সীমিত সম্পদের কারণে বাধ্য হয়ে তাদের একটি বড় অংশ খোলা সৈকত ও শহরের কাছে অত্যন্ত মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

বিক্ষোভকালে অভিবাসীরা স্পেনের পতাকা ও নানা দাবিসংবলিত ব্যানার তুলে ধরেন। ব্যানারে লেখা ছিল ‘আমরা মরক্কোতে ফিরতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’। পাশাপাশি ‘আমরা ক্লান্ত’ ও ‘আমরা একটি সমাধান চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। দুর্দশার বর্ণনা দিয়ে মরক্কোর তেতুয়ানের বাসিন্দা আইয়ুব এলআররুদ বলেন, আমরা সমুদ্রের পাশে ঠান্ডা আর দুর্গন্ধের মধ্যে ঘুমাচ্ছি। আমরা অনেক কষ্ট পাচ্ছি। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের শহরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

তবে অভিবাসীদের এ দাবিতে সাড়া দেওয়ার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে স্পেন সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে আসা কাউকে এ ছিটমহলে থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, তাদেরকে আইনি মর্যাদা বা মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হবে না ।

এদিকে ছিটমহলটির স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে। সেউতার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরালতা জানান, চিকিৎসাকর্মীরা অতিরিক্ত পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ডায়রিয়া, খোসপাঁচড়া এবং ছুরির আঘাতের মতো সহিংসতার চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তিনি বিষয়টি সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকারের ধীরগতিরও সমালোচনা করেন। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া পরিস্থিতির চাপের কথা স্বীকার করলেও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ইউরোপগামী এসব অভিবাসীদের বেশিরভাগই উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়েছেন। ফেজের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী অটোমেশন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ওয়ানজার জানান, মরক্কোয় মাসিক গড়ে ৩,০০০ দিরহাম (৩২৪ ডলার) আয় দিয়ে ঘরবাড়ি করা বা পরিবার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা এ তরুণ বলেন, স্পেনের মাটিতে পা রাখার পর আমার মনে হলো যেন আমি নতুন জীবন পেয়েছি। ফিরে যাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।

২৫ বছর বয়সী হিচাম চিকির বলেন, বেশিরভাগ মানুষই কাজের খোঁজে ইউরোপে আসতে চায়। সরকারের আশঙ্কার জবাবে তিনি আরও বলেন, কেউ খারাপ আচরণ করলে পুলিশ তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারে।

/এমএকে/