শিরোনাম

অবশেষে তীরে ভিড়লো হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরি

সিটিজেন ডেস্ক
অবশেষে তীরে ভিড়লো হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মাঝসমুদ্রে আটকে পড়া প্রমোদতরী এমভি হনডিয়াস অবশেষে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের গ্রানাডিলা বন্দরে ভিড়েছে। কয়েকটি দেশের বন্দরে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর রবিবার (১০ মে) সকালে জাহাজটি সেখানে নোঙর করার অনুমতি পায় এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাত্রীদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতে জাহাজটিকে মূল ডক থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে যাত্রীদের তীরে আনা হচ্ছে। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি নৌকায় সর্বোচ্চ ১০ জন করে যাত্রী পরিবহনের নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ১৪৭ জন আরোহীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম ইতোমধ্যেই জাহাজটিতে প্রবেশ করেছে।

প্রমোদতরীতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকরা রয়েছেন, যাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ইতোমধ্যেই বিশেষ বিমান পাঠিয়েছে। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, বিমান চলাচলের সূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই যাত্রীদের নামানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের লাগেজ আপাতত জাহাজেই থাকছে, যা পরবর্তীতে তাদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমিত না হওয়া ১৭ জন আমেরিকান যাত্রীকে সরাসরি নেব্রাস্কা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর তাদের ৪২ দিন বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এছাড়া জাহাজ থেকে সর্বপ্রথম ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে নামানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত মাসে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরুর পর বিরল হান্টাভাইরাসের কবলে পড়ে এমভি হনডিয়াস, যাতে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত কয়েকজনকে আগেই চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মূলত সংক্রমিত ইঁদুরের মলমূত্র থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের কারণে জাহাজটি কেপ ভার্দেসহ পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে ভিড়তে চেয়েও ব্যর্থ হয়। জাহাজটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ভেড়ানোর বিষয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হলেও স্পেন সরকারের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে এটিই সবচেয়ে সুরক্ষিত পদক্ষেপ। বর্তমানে উচ্চ সতর্কতার মধ্য দিয়ে যাত্রীদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/