শিরোনাম

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ

সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন ও সহায়তার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি সম্প্রতি এ পরোয়ানা জারির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। তবে ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকত্ব পাওয়া ৪১ বছর বয়সী এ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা পুরো বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের দাবি, টেলিগ্রামে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং নানা চরমপন্থী সংগঠনের ব্যবহৃত বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট সক্রিয় রয়েছে, যা সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মতে, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা চালানো হয়েছে, যাতে নারী ও শিশুসহ বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এমনকি ডেভিনচিক/লিও নামক একটি চ্যাটবটের মাধ্যমে কিশোরদের নাশকতামূলক কাজে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টার বিষয়টিও আলাদাভাবে খতিয়ে দেখছে রাশিয়ার তদন্ত কমিটি।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে বসবাস করা পাভেল দুরভ জানান, রাশিয়া আসলে তাদের দেশে টেলিগ্রামের ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করার অজুহাত খুঁজছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেমলিন প্রায়শই তাদের রাজনৈতিক বিরোধীদের কোণঠাসা করতে এ ধরনের সন্ত্রাসবাদ বা চরমপন্থার তকমা ব্যবহার করে থাকে।

ইন্টারনেটের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে মস্কোর সাথে দুরভের দ্বন্দ্ব অবশ্য নতুন নয়। সেন্ট পিটার্সবার্গে জন্ম নেওয়া এ উদ্যোক্তা একসময় ‘রাশিয়ার ফেসবুক’ নামে পরিচিত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ভিকোনটাক্ট’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি চাপের মুখে তাকে নিজের সেই প্রতিষ্ঠান ছেড়েই বেরিয়ে যেতে হয়।

বর্তমানে কোটি কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী থাকা টেলিগ্রাম রাশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় যোগাযোগের মাধ্যম। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিষেবাটি রাশিয়ায় পুরোপুরি ব্লক করে রাখা হয়েছিল, তবে পরে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। প্রযুক্তিগত কাঠামোর কারণে টেলিগ্রামের তথ্যের ওপর নজরদারি করা সরকারের জন্য বেশ কঠিন। উল্লেখ্য, শুধু রাশিয়ার সঙ্গেই নয়, টেলিগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট ছড়ানো প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বর্তমানে ফ্রান্সেও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে দুরভকে।

সূত্র: ইউরো নিউজ

/এমএকে/