শিরোনাম

এক কক্ষে চলছে ছয় শ্রেণির পাঠদান

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
শেখ শাহরিয়ার হোসেন
এক কক্ষে চলছে ছয় শ্রেণির পাঠদান

প্রতিদিন সকাল হলেই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে একটি ছোট্ট কক্ষ। একই ঘরে চলে একাধিক শ্রেণির পাঠদান। কোথাও শিক্ষক নতুন পাঠ বুঝিয়ে দিচ্ছেন, কোথাও শিক্ষার্থীরা উচ্চস্বরে বই পড়ছে।

ঘরের সংকুচিত জায়গা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব, প্রচণ্ড গরম আর ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবে শেখার চেয়ে কষ্টটাই যেন সেখানে বড় হয়ে উঠেছে। রাজধানীর সূত্রাপুরে বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত তিন মাস ধরে এমন পরিবেশেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, বিদ্যালয়টির নিজস্ব ভবন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় পাশের এক্রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি লাইব্রেরি কক্ষে অস্থায়ীভাবে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। সকালে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস এবং দুপুরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়। একটি কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়কেই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এক কক্ষে চলছে ছয় শ্রেণির পাঠদান
বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষটিতে পর্যাপ্ত জানালা নেই। একটি মাত্র ফ্যান দিয়ে পুরো কক্ষের শিক্ষার্থীদের গরম থেকে স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হয় না। বিদ্যালয়ে নেই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়াশরুমের ব্যবস্থাও। ফলে কোমলমতি শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

শিক্ষক সংকট এ বিদ্যালয়ের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগের অধিকাংশ শিক্ষক বদলি হয়ে গেছেন। পুরোনোদের মধ্যে শুধু প্রধান শিক্ষিকাই দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি দুই শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয় থেকে সংযুক্ত করে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়েই তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমিত জায়গার মধ্যেই বেঞ্চ-টেবিল সাজিয়ে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে এবং পাঠদান অব্যাহত রাখতে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, এই পরিবেশে বাচ্চাদের লেখাপড়া করা খুবই কঠিন। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির ক্লাস চলায় শব্দের কারণে পাঠদান ব্যাহত হয়। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে।

ঢাকা জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ এন এম মাহবুব আলম বলেন, অবকাঠামোগত সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যালয়টির মতো অবকাঠামোগত সংকটে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবন ও শ্রেণিকক্ষের মতো অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ অস্থায়ী ভবনগুলো ১৫ থেকে ২০ বছর ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যেই বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।

তবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত বিদ্যালয়টিতে নিরাপদ ও স্থায়ী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়েই একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি হয়। তাই ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব তার শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

/এফসি/