শিরোনাম

খামেনির ওপর হামলার সময় একই ভবনে ছিলেন আরাঘচি, অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি

সিটিজেন ডেস্ক
খামেনির ওপর হামলার সময় একই ভবনে ছিলেন আরাঘচি, অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর ভয়ঙ্কর হামলার সেই দুঃসহ স্মৃতি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কারণ খামেনির ওপর যে ভবনে হামলা হয়েছিল সেখানেই ছিলেন তিনি। অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি।

সম্প্রতি লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেল আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি দাবি করেন, জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়ে কথা বলতে সেদিন গত ২৮ ফেব্রুযারি সকাল ৯টার দিকে তিনি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে যান। কার্যালয়ের একটি কক্ষে তিনি অপেক্ষা করছিলেন। এই সময় হঠাৎ ওই কার্যালয়ে বিমান হামলা হয়। তবে তিনি ওই কার্যালয়ের যে অংশে ছিলেন, সেই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আয়াতুল্লাহ খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত।

আরাঘচি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বের হয়ে আসার পর আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তিনি নিরাপদ আছেন কি না।’ পরে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে এবং পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে তিনি খামেনির মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

টেলিভিশন চ্যানেল আল-মায়াদিনকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, খামেনির কার্যালয়ে হামলার ঘটনার পর ৪০ দিন তিনি নিজ বাড়ি বা স্বজনদের কাছে যাননি। পুরো সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থেকেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় কাজ চালিয়ে গেছেন।

আরাঘচি বলেন, ‘ইরানের প্রতিটি মানুষ যদি নিরাপদ আশ্রয় ও বাঙ্কারে যাওয়ার সুযোগ পায়, তবেই আমি নিরাপদ স্থানে যাব। যেহেতু বর্তমানে সেই সুযোগ সবার জন্য নেই, তাই আমিও জনগণের সঙ্গে মাটির ওপরই থাকব। আমার জনগণের ভাগ্যে যা ঘটবে, আমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটবে।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই অবস্থানই খামেনিকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তিনি বলেন, ‘ খামেনি শুধু রাষ্ট্র পরিচালনাই করতেন না, তিনি মানুষের হৃদয় শাসন করতেন।’

আরাঘচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নির্দেশনা সরাসরি খামেনির কাছ থেকেই আসত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাদের মিত্রদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আরাগচি বলেন, হামলার পর ইরানের পাল্টা ও বহুমাত্রিক হামলা বিশ্বকে বিস্মিত করেছিল।

আরাগচি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন দেশটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারবে না। কিন্তু তেহরান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে।

/বিবি/