শিরোনাম

ইরানে ইউরেনিয়ামের মজুত যাচাইয়ে ব্যর্থ আইএইএ

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে ইউরেনিয়ামের মজুত যাচাইয়ে ব্যর্থ আইএইএ
স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারেনি জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটির একটি গোপনীয় প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা সতর্ক করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের সঠিক আকার, গঠন বা অবস্থান নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সুরক্ষা বিধি বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

আইএইএ জানিয়েছে, তেহরান তার পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করেছে কিনা, সে বিষয়েও বর্তমানে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে বৈশ্বিক এ সংস্থাটির পক্ষে তাদের নিয়মিত সুরক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী তেহরানের জন্য তার বাধ্যবাধকতাগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য ও জরুরি বলে মনে করছে আইএইএ। গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে সংস্থাটির পরিদর্শকরা কেবল বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিই পরিদর্শন করতে পেরেছেন, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ৪.৫ শতাংশ মাত্রার নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে আইএইএ-র হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার প্রায় ৪৪০.৯ কিলোগ্রাম (৯৭২ পাউন্ড) সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় মজুদ রয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ইরান যদি তাদের এ কর্মসূচিকে অস্ত্রায়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ওই উপাদান দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাদের কাছে ইতোমধ্যে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

সাধারণত এ ধরনের উচ্চ-সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান প্রতি মাসে পরীক্ষা করার নিয়ম থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ব্যাহত হচ্ছে। তবে গ্রোসি একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য চলমান আলোচনার প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন চতুর্থ মাসে পদার্পণ করে আরও জটিল রূপ নিয়েছে, তখন এ সংকট নিরসন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম চড়া রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে এই অঞ্চলের বাইরেও।

সূত্র: এপি

/এমএকে/