ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পকে ঠেকাতে ব্যর্থ মার্কিন সিনেট

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পকে ঠেকাতে ব্যর্থ মার্কিন সিনেট
সিটিজেন ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘিরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন সেই যুদ্ধের প্রতিধ্বনি তীব্রভাবে শোনা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নাকি কংগ্রেসের ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত ক্যাপিটাল হিল।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন সিনেটে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বুধবার (৪ মার্চ) ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে গেছে। প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলে অন্যদেশে ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে চাওয়া আইনপ্রণেতাদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিনেটে ভোটের ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযানের পক্ষে রিপাবলিকানদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। একই ধরনের একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রতিনিধি পরিষদে তোলার কথা থাকলেও সেখানে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কংগ্রেস বনাম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা
প্রস্তাবটি ঘিরে সিনেটে দিনভর তীব্র বিতর্ক হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে ট্রাম্প তার সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল তাৎক্ষণিক হুমকির মুখে ‘আত্মরক্ষার’ প্রয়োজনেই প্রেসিডেন্ট সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। অন্য সব ক্ষেত্রে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
সিনেট ফ্লোরে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিনেটর টিম কেইন বলেন, গোপনীয় ব্রিফিংয়েও ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি যা থেকে বোঝা যায় যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আসন্ন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তিনি বলেন, আপনি এটিকে এমন ছোট আঘাত বলতে পারেন না যা যুদ্ধের পর্যায়ে পড়ে না। আবার এটাও বলা যায় না যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো স্থল সেনা নেই।
ট্রাম্পের পক্ষে রিপাবলিকানরা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে এ পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই দিয়ে আসছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল, যা গত বছরের হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বলে তিনি আগে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে ট্রাম্প পরে জানান, মূলত ইরানই ইসরায়েলের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের শত্রুতামূলক আচরণই প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপকে যৌক্তিক করে তোলে। তার দাবি, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান আবারও পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালুর চেষ্টা করছিল।
যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে আরও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
যুদ্ধ কত দিন চলবে বা কতটা বিস্তৃত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিযানটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে সিনেটর রিশ আশাবাদী যে এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হবে না এবং খুব দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটাভুটি
প্রস্তাবটি সিনেটে পাস হলেও আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথে বেশ কিছু বাধা ছিল। কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস হওয়ার পর এটি প্রেসিডেন্টের কাছে অনুমোদনের জন্য যেত, যেখানে ট্রাম্প ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন।
সেই ভেটো বাতিল করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হতো, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব।
তারপরও বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
‘ফ্রেন্ডস কমিটি অন ন্যাশনাল লেজিসলেশন’-এর মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিশেষজ্ঞ হাসান এল-তায়াব বলেন, এই মুহূর্তটি আমাদের একটি মৌলিক সত্যের কথা মনে করিয়ে দেয় নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা পরীক্ষা করা এবং অন্তহীন যুদ্ধ ঠেকাতে কংগ্রেসকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘ডিমান্ড প্রগ্রেস’-এর সিভন খারজিয়ান মনে করেন, এই ভোটের রাজনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের বছরে ভোটাররা মনে রাখবে কারা একটি ‘অবৈধ ও অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
তার ভাষায়, যারা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তারা মূলত মার্কিন জনগণের ইচ্ছা ও সেনাদের নিরাপত্তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘিরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন সেই যুদ্ধের প্রতিধ্বনি তীব্রভাবে শোনা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নাকি কংগ্রেসের ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত ক্যাপিটাল হিল।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন সিনেটে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বুধবার (৪ মার্চ) ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে গেছে। প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলে অন্যদেশে ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে চাওয়া আইনপ্রণেতাদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিনেটে ভোটের ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযানের পক্ষে রিপাবলিকানদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। একই ধরনের একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রতিনিধি পরিষদে তোলার কথা থাকলেও সেখানে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কংগ্রেস বনাম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা
প্রস্তাবটি ঘিরে সিনেটে দিনভর তীব্র বিতর্ক হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে ট্রাম্প তার সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল তাৎক্ষণিক হুমকির মুখে ‘আত্মরক্ষার’ প্রয়োজনেই প্রেসিডেন্ট সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। অন্য সব ক্ষেত্রে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
সিনেট ফ্লোরে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিনেটর টিম কেইন বলেন, গোপনীয় ব্রিফিংয়েও ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি যা থেকে বোঝা যায় যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আসন্ন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তিনি বলেন, আপনি এটিকে এমন ছোট আঘাত বলতে পারেন না যা যুদ্ধের পর্যায়ে পড়ে না। আবার এটাও বলা যায় না যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো স্থল সেনা নেই।
ট্রাম্পের পক্ষে রিপাবলিকানরা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে এ পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই দিয়ে আসছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল, যা গত বছরের হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বলে তিনি আগে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে ট্রাম্প পরে জানান, মূলত ইরানই ইসরায়েলের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের শত্রুতামূলক আচরণই প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপকে যৌক্তিক করে তোলে। তার দাবি, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান আবারও পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালুর চেষ্টা করছিল।
যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে আরও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
যুদ্ধ কত দিন চলবে বা কতটা বিস্তৃত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিযানটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে সিনেটর রিশ আশাবাদী যে এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হবে না এবং খুব দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটাভুটি
প্রস্তাবটি সিনেটে পাস হলেও আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথে বেশ কিছু বাধা ছিল। কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস হওয়ার পর এটি প্রেসিডেন্টের কাছে অনুমোদনের জন্য যেত, যেখানে ট্রাম্প ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন।
সেই ভেটো বাতিল করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হতো, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব।
তারপরও বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
‘ফ্রেন্ডস কমিটি অন ন্যাশনাল লেজিসলেশন’-এর মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিশেষজ্ঞ হাসান এল-তায়াব বলেন, এই মুহূর্তটি আমাদের একটি মৌলিক সত্যের কথা মনে করিয়ে দেয় নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা পরীক্ষা করা এবং অন্তহীন যুদ্ধ ঠেকাতে কংগ্রেসকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘ডিমান্ড প্রগ্রেস’-এর সিভন খারজিয়ান মনে করেন, এই ভোটের রাজনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের বছরে ভোটাররা মনে রাখবে কারা একটি ‘অবৈধ ও অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
তার ভাষায়, যারা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তারা মূলত মার্কিন জনগণের ইচ্ছা ও সেনাদের নিরাপত্তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পকে ঠেকাতে ব্যর্থ মার্কিন সিনেট
সিটিজেন ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘিরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন সেই যুদ্ধের প্রতিধ্বনি তীব্রভাবে শোনা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নাকি কংগ্রেসের ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত ক্যাপিটাল হিল।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন সিনেটে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বুধবার (৪ মার্চ) ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে গেছে। প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলে অন্যদেশে ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে চাওয়া আইনপ্রণেতাদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিনেটে ভোটের ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযানের পক্ষে রিপাবলিকানদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। একই ধরনের একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রতিনিধি পরিষদে তোলার কথা থাকলেও সেখানে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কংগ্রেস বনাম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা
প্রস্তাবটি ঘিরে সিনেটে দিনভর তীব্র বিতর্ক হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে ট্রাম্প তার সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল তাৎক্ষণিক হুমকির মুখে ‘আত্মরক্ষার’ প্রয়োজনেই প্রেসিডেন্ট সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। অন্য সব ক্ষেত্রে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
সিনেট ফ্লোরে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিনেটর টিম কেইন বলেন, গোপনীয় ব্রিফিংয়েও ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি যা থেকে বোঝা যায় যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আসন্ন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তিনি বলেন, আপনি এটিকে এমন ছোট আঘাত বলতে পারেন না যা যুদ্ধের পর্যায়ে পড়ে না। আবার এটাও বলা যায় না যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো স্থল সেনা নেই।
ট্রাম্পের পক্ষে রিপাবলিকানরা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে এ পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই দিয়ে আসছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল, যা গত বছরের হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বলে তিনি আগে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে ট্রাম্প পরে জানান, মূলত ইরানই ইসরায়েলের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের শত্রুতামূলক আচরণই প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপকে যৌক্তিক করে তোলে। তার দাবি, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান আবারও পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালুর চেষ্টা করছিল।
যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে আরও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
যুদ্ধ কত দিন চলবে বা কতটা বিস্তৃত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিযানটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে সিনেটর রিশ আশাবাদী যে এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হবে না এবং খুব দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটাভুটি
প্রস্তাবটি সিনেটে পাস হলেও আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথে বেশ কিছু বাধা ছিল। কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস হওয়ার পর এটি প্রেসিডেন্টের কাছে অনুমোদনের জন্য যেত, যেখানে ট্রাম্প ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন।
সেই ভেটো বাতিল করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হতো, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব।
তারপরও বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
‘ফ্রেন্ডস কমিটি অন ন্যাশনাল লেজিসলেশন’-এর মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিশেষজ্ঞ হাসান এল-তায়াব বলেন, এই মুহূর্তটি আমাদের একটি মৌলিক সত্যের কথা মনে করিয়ে দেয় নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা পরীক্ষা করা এবং অন্তহীন যুদ্ধ ঠেকাতে কংগ্রেসকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘ডিমান্ড প্রগ্রেস’-এর সিভন খারজিয়ান মনে করেন, এই ভোটের রাজনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের বছরে ভোটাররা মনে রাখবে কারা একটি ‘অবৈধ ও অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
তার ভাষায়, যারা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তারা মূলত মার্কিন জনগণের ইচ্ছা ও সেনাদের নিরাপত্তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা




