চলতি বছরেই দেশে ফিরছেন সাকিব

চলতি বছরেই দেশে ফিরছেন সাকিব
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখনও দেশে ফিরতে পারেননি সাবেক এই সংসদ সদস্য। তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সব সমস্যার সমাধান করে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান।
সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সাকিব বলেন, আমি প্রত্যাশা করছি, চলতি বছরের শেষ দিকে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত- আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু এটাই যে, কত দ্রুত তা ঘটতে পারে। তবে আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে ফিরতে পারব। কিভাবে ঘটবে জানি না।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেন, আমি দেশটাকে ভীষণভাবে মিস করছি। আমি সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ ছিলাম। আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যেন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি। এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারব।
তিনি বলেন, আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশে ফেরা। বিসিবি বা অন্যদের সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যে আমি দেখেছি যে তারা চায় আমি আসি এবং খেলি। কিন্তু যেহেতু একটি আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাই এগুলো শুধু মুখে বললে হবে না, বিষয়গুলো সমাধান করে আসতে হবে। যেহেতু আমি দূরে আছি, আমার হয়ে যদি এই কাজগুলো যদি বিসিবি করত, আমার জন্য সহজ হতো। আমি বলছি না একদমই করেনি, কিন্তু আরেকটু ভালোভাবে করা গেলে তাড়াতাড়ি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। যেহেতু সেটা হয়নি, দেরি হচ্ছি আমি তাই আমার মতো করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এটার সমাধান করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছি না, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বিসিবিতে কে আছেন বা কে আসবেন সেটা বড় কথা নয়। ওই পদ বা চেয়ারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হচ্ছে। পজিশন অনুযায়ী যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন, আমি তাদের সঙ্গেই কথা বলছি। এখন যারা আছেন তারাও বিসিবির অংশ, পরে যারা আসবেন তারাও বিসিবির অংশ।
বিশ্বকাপ খেলতে না পারা নিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলাটা অবশ্যই হতাশাজনক। ওই সময় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসলে তার ওপর তো বিসিবি কথা বলতে পারে না। এটা সম্ভব ছিলো না। তৎকালীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই আসলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যার দায় ওই সময়ের সরকারের ওপরেই বর্তায়। কারণ তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ খেলাটা হয় নাই। এবার যারা খেলত, পরের বিশ্বকাপে তাদের অনেকেই নিশ্চিতভাবে থাকবে না। তাদের মধ্যে যদি কারো এটা প্রথম বিশ্বকাপ হতো, দেখা গেলো তার আর বিশ্বকাপই খেলা হলো না কোনদিন। বিশেষ করে যাদের জন্য এটি প্রথম বা শেষ বিশ্বকাপ হতে পারত, তাদের জন্য আজীবন একটি আক্ষেপ থেকে যাবে।
খেলোয়াড়রা অসহায় কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের আসলে তো কিছু করার নাই। ধরেন আমি ক্লাবের মালিক, আমি বললাম খেলব না। এখন আপনি কী করবেন। আপনি বিসিবি হলে বড়জোর অনুরোধ করবেন। যারাই যেটা করছে তারা ক্ষমতা ধরার জন্য করছে। এর বাইরে তো কিছু না। এটার যৌক্তিকতা কতটা আছে পরের প্রশ্ন। তারা যদি মনে করে যৌক্তিক সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। এখানে বিসিবির করণীয় আছে। আসলে এক হাতে তো তালি বাজে না, সব দিক থেকেই হচ্ছে। খেলা শুরুর আন্তরিকতা না থাকলে আমি লীগ হওয়ার সুযোগ দেখি না। এখন সম্পর্কের জায়গা এমন অবস্থায় এসেছে যে মনে হয় না সহজ পথে কিছু হবে। আইনি পথে যদি হয়।
আগামীতে রাজনীতি করা নিয়ে সাকিব বলেন, রাজনীতি তো আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে। পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে ভালো কিছুই হবে।
তিনি বলেন, যেভাবেই আসুক, এখন নতুন সরকার এসেছে। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সামনে এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। মুখে বলা আর কাজে করার পার্থক্য আছে। সবাইকে নিয়ে যদি কাজ করতে পারে তাহলে সমস্যা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারবে। যদিও বৈশ্বিক একটা সংকট চলছে। তবে অন্যান্য দেশের থেকে বাংলাদেশের সংকটটা আরও বেশি। সারিতে প্রথম দিকে আছে। এখানে উচিত সবাই মিলে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, সবারই পক্ষ-বিপক্ষ দুইটাই থাকে। সব কিছু থাকার পরও সামনে এগিয়ে যেতে হয়। একটা দেশে থাকতে হলে সবাই মিলে থাকতে হয়। আমরা যেহেতু সবাই বাংলাদেশেরই নাগরিক, স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে থাকতে হবে। পছন্দ হতেও পারে, নাও হতে পারে। আমার অনেককে পছন্দ হয় না। অনেক সিদ্ধান্ত পছন্দ হয় না এর মানে এই না যে আমি তার ক্ষতি করতে যাব। কারণ আমিতো দুনিয়ার সবাইকে পছন্দ করব না এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। এখন একজনকে পছন্দ না করলে কি আমি তার ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকব? অন্তত আমি এগুলোতে বিশ্বাস করি না।

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখনও দেশে ফিরতে পারেননি সাবেক এই সংসদ সদস্য। তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সব সমস্যার সমাধান করে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান।
সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সাকিব বলেন, আমি প্রত্যাশা করছি, চলতি বছরের শেষ দিকে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত- আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু এটাই যে, কত দ্রুত তা ঘটতে পারে। তবে আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে ফিরতে পারব। কিভাবে ঘটবে জানি না।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেন, আমি দেশটাকে ভীষণভাবে মিস করছি। আমি সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ ছিলাম। আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যেন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি। এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারব।
তিনি বলেন, আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশে ফেরা। বিসিবি বা অন্যদের সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যে আমি দেখেছি যে তারা চায় আমি আসি এবং খেলি। কিন্তু যেহেতু একটি আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাই এগুলো শুধু মুখে বললে হবে না, বিষয়গুলো সমাধান করে আসতে হবে। যেহেতু আমি দূরে আছি, আমার হয়ে যদি এই কাজগুলো যদি বিসিবি করত, আমার জন্য সহজ হতো। আমি বলছি না একদমই করেনি, কিন্তু আরেকটু ভালোভাবে করা গেলে তাড়াতাড়ি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। যেহেতু সেটা হয়নি, দেরি হচ্ছি আমি তাই আমার মতো করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এটার সমাধান করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছি না, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বিসিবিতে কে আছেন বা কে আসবেন সেটা বড় কথা নয়। ওই পদ বা চেয়ারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হচ্ছে। পজিশন অনুযায়ী যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন, আমি তাদের সঙ্গেই কথা বলছি। এখন যারা আছেন তারাও বিসিবির অংশ, পরে যারা আসবেন তারাও বিসিবির অংশ।
বিশ্বকাপ খেলতে না পারা নিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলাটা অবশ্যই হতাশাজনক। ওই সময় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসলে তার ওপর তো বিসিবি কথা বলতে পারে না। এটা সম্ভব ছিলো না। তৎকালীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই আসলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যার দায় ওই সময়ের সরকারের ওপরেই বর্তায়। কারণ তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ খেলাটা হয় নাই। এবার যারা খেলত, পরের বিশ্বকাপে তাদের অনেকেই নিশ্চিতভাবে থাকবে না। তাদের মধ্যে যদি কারো এটা প্রথম বিশ্বকাপ হতো, দেখা গেলো তার আর বিশ্বকাপই খেলা হলো না কোনদিন। বিশেষ করে যাদের জন্য এটি প্রথম বা শেষ বিশ্বকাপ হতে পারত, তাদের জন্য আজীবন একটি আক্ষেপ থেকে যাবে।
খেলোয়াড়রা অসহায় কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের আসলে তো কিছু করার নাই। ধরেন আমি ক্লাবের মালিক, আমি বললাম খেলব না। এখন আপনি কী করবেন। আপনি বিসিবি হলে বড়জোর অনুরোধ করবেন। যারাই যেটা করছে তারা ক্ষমতা ধরার জন্য করছে। এর বাইরে তো কিছু না। এটার যৌক্তিকতা কতটা আছে পরের প্রশ্ন। তারা যদি মনে করে যৌক্তিক সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। এখানে বিসিবির করণীয় আছে। আসলে এক হাতে তো তালি বাজে না, সব দিক থেকেই হচ্ছে। খেলা শুরুর আন্তরিকতা না থাকলে আমি লীগ হওয়ার সুযোগ দেখি না। এখন সম্পর্কের জায়গা এমন অবস্থায় এসেছে যে মনে হয় না সহজ পথে কিছু হবে। আইনি পথে যদি হয়।
আগামীতে রাজনীতি করা নিয়ে সাকিব বলেন, রাজনীতি তো আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে। পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে ভালো কিছুই হবে।
তিনি বলেন, যেভাবেই আসুক, এখন নতুন সরকার এসেছে। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সামনে এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। মুখে বলা আর কাজে করার পার্থক্য আছে। সবাইকে নিয়ে যদি কাজ করতে পারে তাহলে সমস্যা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারবে। যদিও বৈশ্বিক একটা সংকট চলছে। তবে অন্যান্য দেশের থেকে বাংলাদেশের সংকটটা আরও বেশি। সারিতে প্রথম দিকে আছে। এখানে উচিত সবাই মিলে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, সবারই পক্ষ-বিপক্ষ দুইটাই থাকে। সব কিছু থাকার পরও সামনে এগিয়ে যেতে হয়। একটা দেশে থাকতে হলে সবাই মিলে থাকতে হয়। আমরা যেহেতু সবাই বাংলাদেশেরই নাগরিক, স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে থাকতে হবে। পছন্দ হতেও পারে, নাও হতে পারে। আমার অনেককে পছন্দ হয় না। অনেক সিদ্ধান্ত পছন্দ হয় না এর মানে এই না যে আমি তার ক্ষতি করতে যাব। কারণ আমিতো দুনিয়ার সবাইকে পছন্দ করব না এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। এখন একজনকে পছন্দ না করলে কি আমি তার ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকব? অন্তত আমি এগুলোতে বিশ্বাস করি না।

চলতি বছরেই দেশে ফিরছেন সাকিব
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখনও দেশে ফিরতে পারেননি সাবেক এই সংসদ সদস্য। তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সব সমস্যার সমাধান করে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান।
সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সাকিব বলেন, আমি প্রত্যাশা করছি, চলতি বছরের শেষ দিকে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত- আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু এটাই যে, কত দ্রুত তা ঘটতে পারে। তবে আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে ফিরতে পারব। কিভাবে ঘটবে জানি না।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেন, আমি দেশটাকে ভীষণভাবে মিস করছি। আমি সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ ছিলাম। আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যেন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি। এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারব।
তিনি বলেন, আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশে ফেরা। বিসিবি বা অন্যদের সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যে আমি দেখেছি যে তারা চায় আমি আসি এবং খেলি। কিন্তু যেহেতু একটি আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাই এগুলো শুধু মুখে বললে হবে না, বিষয়গুলো সমাধান করে আসতে হবে। যেহেতু আমি দূরে আছি, আমার হয়ে যদি এই কাজগুলো যদি বিসিবি করত, আমার জন্য সহজ হতো। আমি বলছি না একদমই করেনি, কিন্তু আরেকটু ভালোভাবে করা গেলে তাড়াতাড়ি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। যেহেতু সেটা হয়নি, দেরি হচ্ছি আমি তাই আমার মতো করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এটার সমাধান করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছি না, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বিসিবিতে কে আছেন বা কে আসবেন সেটা বড় কথা নয়। ওই পদ বা চেয়ারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হচ্ছে। পজিশন অনুযায়ী যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন, আমি তাদের সঙ্গেই কথা বলছি। এখন যারা আছেন তারাও বিসিবির অংশ, পরে যারা আসবেন তারাও বিসিবির অংশ।
বিশ্বকাপ খেলতে না পারা নিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলাটা অবশ্যই হতাশাজনক। ওই সময় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসলে তার ওপর তো বিসিবি কথা বলতে পারে না। এটা সম্ভব ছিলো না। তৎকালীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই আসলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যার দায় ওই সময়ের সরকারের ওপরেই বর্তায়। কারণ তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ খেলাটা হয় নাই। এবার যারা খেলত, পরের বিশ্বকাপে তাদের অনেকেই নিশ্চিতভাবে থাকবে না। তাদের মধ্যে যদি কারো এটা প্রথম বিশ্বকাপ হতো, দেখা গেলো তার আর বিশ্বকাপই খেলা হলো না কোনদিন। বিশেষ করে যাদের জন্য এটি প্রথম বা শেষ বিশ্বকাপ হতে পারত, তাদের জন্য আজীবন একটি আক্ষেপ থেকে যাবে।
খেলোয়াড়রা অসহায় কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের আসলে তো কিছু করার নাই। ধরেন আমি ক্লাবের মালিক, আমি বললাম খেলব না। এখন আপনি কী করবেন। আপনি বিসিবি হলে বড়জোর অনুরোধ করবেন। যারাই যেটা করছে তারা ক্ষমতা ধরার জন্য করছে। এর বাইরে তো কিছু না। এটার যৌক্তিকতা কতটা আছে পরের প্রশ্ন। তারা যদি মনে করে যৌক্তিক সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। এখানে বিসিবির করণীয় আছে। আসলে এক হাতে তো তালি বাজে না, সব দিক থেকেই হচ্ছে। খেলা শুরুর আন্তরিকতা না থাকলে আমি লীগ হওয়ার সুযোগ দেখি না। এখন সম্পর্কের জায়গা এমন অবস্থায় এসেছে যে মনে হয় না সহজ পথে কিছু হবে। আইনি পথে যদি হয়।
আগামীতে রাজনীতি করা নিয়ে সাকিব বলেন, রাজনীতি তো আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে। পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে ভালো কিছুই হবে।
তিনি বলেন, যেভাবেই আসুক, এখন নতুন সরকার এসেছে। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সামনে এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। মুখে বলা আর কাজে করার পার্থক্য আছে। সবাইকে নিয়ে যদি কাজ করতে পারে তাহলে সমস্যা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারবে। যদিও বৈশ্বিক একটা সংকট চলছে। তবে অন্যান্য দেশের থেকে বাংলাদেশের সংকটটা আরও বেশি। সারিতে প্রথম দিকে আছে। এখানে উচিত সবাই মিলে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, সবারই পক্ষ-বিপক্ষ দুইটাই থাকে। সব কিছু থাকার পরও সামনে এগিয়ে যেতে হয়। একটা দেশে থাকতে হলে সবাই মিলে থাকতে হয়। আমরা যেহেতু সবাই বাংলাদেশেরই নাগরিক, স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে থাকতে হবে। পছন্দ হতেও পারে, নাও হতে পারে। আমার অনেককে পছন্দ হয় না। অনেক সিদ্ধান্ত পছন্দ হয় না এর মানে এই না যে আমি তার ক্ষতি করতে যাব। কারণ আমিতো দুনিয়ার সবাইকে পছন্দ করব না এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। এখন একজনকে পছন্দ না করলে কি আমি তার ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকব? অন্তত আমি এগুলোতে বিশ্বাস করি না।

‘বিয়ন্ড বাংলা’ নিয়ে নতুন ইনিংস সাকিবের


