শিরোনাম

৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো ইন্দোনেশিয়া

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ইন্দোনেশিয়ার মধ্য সুলাওয়েসি দ্বীপে মঙ্গলবার (১৬ জুন) আঘাত হেনেছে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। আকস্মিক এই দুর্যোগে অঞ্চলটির বেশ কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড কম্পন শুরু হতেই মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু শহরের প্রায় চার লাখ বাসিন্দা এবং আশেপাশের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় ছুটে যান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের দ্রুত বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ভূমিকম্পের পর এলাকাটি থেকে পাওয়া বিভিন্ন ছবিতে ভবনগুলোর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোথাও ছাদ আংশিক ধসে পড়েছে, কোথাও দেয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং রাস্তাঘাটে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, সম্ভাব্য হতাহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পালু শহর থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার। মূল কম্পনের পর বেশ কয়েকটি পরাকম্পন বা আফটারশক অনুভূত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশকটির মাত্রা ছিল ৫.২। সুনামি হতে পারে এমন আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ দূরত্বের দিকে ছুটলেও ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, সুনামির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে আফটারশক অব্যাহত থাকতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত, যার ফলে এখানে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত একটি নিয়মিত ঘটনা। এর আগে, ২০১৮ সালে পালু শহরে আঘাত হানা একটি ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের ফলে ১০ ফুট উঁচু সুনামি ঘটেছিল। সেই ভয়াবহ স্মৃতিই মূলত সুলাওয়েসির বাসিন্দাদের আবার নতুন করে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এছাড়া, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুলাওয়েসির মামুজু শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছিলেন। তখনো হাজার হাজার মানুষ আফটারশকের ভয়ে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন।

সূত্র: এপি

/এমএকে/