চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৫ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৫ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বহুল আলোচিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ৫টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ২টি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
অনুমোদিত ৫টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে– প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে চুক্তি হলেও অর্থায়ন, ডেভেলপার নির্বাচন ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অগ্রগতি পায়নি।
প্রকল্পটির অফসাইট অবকাঠামো যেমন– সড়ক, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। আর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকাজ করবে ডেভেলপার কোম্পানি। এই দুই অংশের কাজ সমন্বিতভাবে এগোতে না পারায় এতদিন প্রকল্পটি আটকে ছিল। শুরুতে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে ডেভেলপার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরে ২০২২ সালে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণ থেকে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় বহুমুখী জেটি, জেটি-সংযোগ সড়ক, সেতু, চার লেনের সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো, পানি সংরক্ষণাগার এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে আরো ৪ লাখ মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও ৪ প্রকল্প অনুমোদন
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এগুলো হলো– ১. ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়); ২. ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্প; ৩. ‘পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন– অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এরইমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় জানানো হয়। সেগুলো হলো– ১. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, ২. নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প, ৩. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং ৪. প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।

বহুল আলোচিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ৫টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ২টি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
অনুমোদিত ৫টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে– প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে চুক্তি হলেও অর্থায়ন, ডেভেলপার নির্বাচন ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অগ্রগতি পায়নি।
প্রকল্পটির অফসাইট অবকাঠামো যেমন– সড়ক, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। আর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকাজ করবে ডেভেলপার কোম্পানি। এই দুই অংশের কাজ সমন্বিতভাবে এগোতে না পারায় এতদিন প্রকল্পটি আটকে ছিল। শুরুতে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে ডেভেলপার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরে ২০২২ সালে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণ থেকে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় বহুমুখী জেটি, জেটি-সংযোগ সড়ক, সেতু, চার লেনের সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো, পানি সংরক্ষণাগার এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে আরো ৪ লাখ মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও ৪ প্রকল্প অনুমোদন
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এগুলো হলো– ১. ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়); ২. ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্প; ৩. ‘পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন– অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এরইমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় জানানো হয়। সেগুলো হলো– ১. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, ২. নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প, ৩. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং ৪. প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৫ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বহুল আলোচিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ৫টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ২টি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
অনুমোদিত ৫টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে– প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে চুক্তি হলেও অর্থায়ন, ডেভেলপার নির্বাচন ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অগ্রগতি পায়নি।
প্রকল্পটির অফসাইট অবকাঠামো যেমন– সড়ক, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। আর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকাজ করবে ডেভেলপার কোম্পানি। এই দুই অংশের কাজ সমন্বিতভাবে এগোতে না পারায় এতদিন প্রকল্পটি আটকে ছিল। শুরুতে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে ডেভেলপার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরে ২০২২ সালে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণ থেকে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় বহুমুখী জেটি, জেটি-সংযোগ সড়ক, সেতু, চার লেনের সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো, পানি সংরক্ষণাগার এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে আরো ৪ লাখ মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও ৪ প্রকল্প অনুমোদন
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এগুলো হলো– ১. ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়); ২. ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্প; ৩. ‘পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন– অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এরইমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় জানানো হয়। সেগুলো হলো– ১. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, ২. নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প, ৩. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং ৪. প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।

একনেকে ৮ প্রকল্প অনুমোদন


