শিরোনাম

১০ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ তৈরির নির্দেশ কিমের

সিটিজেন ডেস্ক
১০ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ তৈরির নির্দেশ কিমের
উত্তর কোরিয়ার একটি অজ্ঞাত স্থানে ডেস্ট্রয়ার ‘কাং কন’ এ কিম জং উন এবং তার কন্যা। ছবি: কেসিএনএ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত পিয়ংইয়ং সফরের প্রাক্কালে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে উত্তর কোরিয়া। এরই অংশ হিসেবে দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন নৌবাহিনীকে ১০ হাজার টনের একটি বিশাল ডেস্ট্রয়ার বা যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পানির নিচে ব্যবহারযোগ্য গোপন মারণাস্ত্র তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের সিনিয়র বিশ্লেষক হং মিন মনে করেন, উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো ১০ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার তৈরির পরিকল্পনা প্রকাশ্যে এনে মূলত চীনা প্রেসিডেন্টের সফরের আগে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার গভীরতা জাহির করতে চাইছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রোদং সিনমুনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কিম জং উন স্বশরীরে একটি নৌ মহড়া ও পরীক্ষা পরিদর্শন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে চীন তার এ দীর্ঘদিনের মিত্রকে নিজস্ব বলয়ে ধরে রাখতে চাইছে, যার অংশ হিসেবে আগামী ৮ ও ৯ জুন দীর্ঘ ৭ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করেই কিম সামরিক ও অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ‘কাং কন’-এ আরোহণ করেন এবং ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের আরেকটি সমমানের যুদ্ধজাহাজ পর্যবেক্ষণ করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে এই যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শনের সময় কিমের সঙ্গে তার কন্যা জু অ্যা-কেও দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, ‘কাং কন’ যুদ্ধজাহাজটি ২০২৫ সালের মে মাসে চংজিন বন্দরে উদ্বোধনের সময় আংশিকভাবে উল্টে গিয়েছিল, যা নিয়ে কিম সে সময় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একে অপরাধমূলক কাজ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজিন বন্দরে দীর্ঘ মেরামতের পর জাহাজটিকে নতুন নামে আবার সাগরে ভাসানো হয়। সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা প্রতিরোধে নৌ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে কিম জং উন জল, স্থল ও আকাশ তিন বিভাগেই শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে একটি নতুন পরমাণু উপাদান উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগার দ্রুত ও ঘাটতিহীনভাবে সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এ সামরিক তৎপরতা একাধারে চীনের প্রতি শক্তির বার্তা এবং নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার একটি বড় প্রয়াস।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/