শিরোনাম

দীর্ঘ ৭ বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

সিটিজেন ডেস্ক
দীর্ঘ ৭ বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
শি জিনপিং ও কিম জং উন। ছবি: এবিসি নিউজ

দীর্ঘ সাত বছরের বিরতি ভেঙে সোমবার (৮ জুন) দুই দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আতিথ্য দেওয়ার পর চীনা নেতার এ সফর বিশ্বরাজনীতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এবং উত্তর কোরিয়ার কেসিএনএ শুক্রবার (৫ জুন) সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সফরে তিনি উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ২০১৯ সালের পর পিয়ংইয়ংয়ে এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম সফর। এটি প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যকার ঐতিহাসিক ও জটিল সম্পর্ককে নতুন করে উষ্ণ করার একটি শক্তিশালী উদ্যোগ।

চলতি বছরে এটি চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফর। কিন্তু তিনি ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালে বেইজিংয়ে ১৭ জন বিশ্বনেতাকে আতিথ্য দিয়েছেন। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ের একটি সামরিক কুচকাওয়াজে কিম জং উন ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সাক্ষাৎ হয়েছিল। আগামী সপ্তাহের এ দ্বিপক্ষীয় সফরটি শি জিনপিংকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন ক্ষমতাধর ভূ-রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রমাণের আরও একটি সুযোগ এনে দিচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এ সফর উভয় দেশের স্বার্থের পাশাপাশি এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, শি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উনের মধ্যে থমকে থাকা পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করতে চাইছেন।

গত মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৩ দিনের বেইজিং সফরের সময় কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করে পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। তবে তিনি আবারও সেই কূটনীতি চালুর আগ্রহ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, কিম জং উন ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হলেও তার শর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি দ্রুতগতিতে বাড়িয়ে তুলছে এবং এ সপ্তাহেই কিম অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপাদান তৈরির একটি নতুন কারখানা পরিদর্শন করে পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতার সমীকরণের বাইরে গিয়ে শি জিনপিং মূলত পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের নিজস্ব জটিল অংশীদারিত্বের হিসাব মেলাতেই এ সফরে যাচ্ছেন। চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগের যোগানদাতা হলেও, পিয়ংইয়ংয়ের অবৈধ পারমাণবিক কর্মসূচি ও অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে বেইজিং বরাবরই বেশ সতর্ক। কারণ, এর ফলে এ অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি বৃদ্ধি পায় এবং এমন এক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি হয় যা সীমান্তঘেঁষা চীনকেও সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। তাছাড়া কোভিড মহামারির সময় সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া এবং পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার জন্য রাশিয়ায় সেনা পাঠানোর মাধ্যমে মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং-পিয়ংইয়ং সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা গেছে। শি-র এই সফর মূলত সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার কাছে চীনের অপরিহার্যতা তুলে ধরার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/