শিরোনাম

মানুষ এখন আগের চেয়ে কম কথা বলছে

সিটিজেন ডেস্ক
মানুষ এখন আগের চেয়ে কম কথা বলছে
প্রতীকী ছবি

মানুষ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কম কথা বলছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, গত দেড় দশকে মানুষে মানুষে মুখে বলা কথার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব মিজৌরি-ক্যানসাস সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার গবেষকেরা দেখেছেন, ২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অন্য একজন মানুষের সঙ্গে সরাসরি বলা শব্দের সংখ্যা প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে। তাদের ধারণা, করোনাভাইরাস মহামারির পর এই কমার প্রবণতা আরও বেড়েছে।

গবেষকেরা ২২টি আলাদা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দুই হাজারের বেশি মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের অডিও রেকর্ড করেছিলেন। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৫ সালে একজন মানুষ দিনে গড়ে ১৬ হাজার ৬৩২টি শব্দ বলতেন। ২০১৯ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ১১ হাজার ৯০০-তে।

অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার, টেক্সট বার্তার বাড়তি ব্যবহার এবং ধীরে ধীরে অনলাইননির্ভর জীবনযাপনকে এই পরিবর্তনের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, এখন দৈনন্দিন কাজের বড় অংশ মুখে কথা না বলেও সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে গবেষকেরা বলছেন, মানুষে মানুষে সরাসরি যোগাযোগ কমে যাওয়ার মানসিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিষয়টি শুধু একাকিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষ ধীরে ধীরে সাধারণ কথোপকথনের দক্ষতাও হারাচ্ছে। যেমন, বাধা না দিয়ে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কম বয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। ২৫ বছরের কম বয়সীরা বছরে গড়ে ৪৫১টি শব্দ কম বলছেন। ২৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার বছরে ৩১৪টি শব্দ। সব বয়স মিলিয়ে একজন মানুষ গড়ে বছরে ৩৩৮টি শব্দ কম বলছেন।

এই ধারা একইভাবে চলতে থাকলে এখন মানুষ দিনে ১০ হাজারেরও কম শব্দ বলছেন বলে ধারণা গবেষকদের।

তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইউনিভার্সিটি অব নেভাডা, রেনোর ভাষাবিজ্ঞান অধ্যাপক ভ্যালেরি ফ্রিডল্যান্ড ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ছোট কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই প্রবণতা বদলানো সম্ভব। যেমন, বাবা-মা শিশুদের সঙ্গে আরও বেশি কথা বলতে পারেন, বাসায় ল্যান্ডলাইন ফোন রাখা যেতে পারে এবং দিনের কিছু সময় স্মার্টফোন দূরে রাখাও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

/এসএ/