শিরোনাম
বাজেট ২০২৬-২৭

‘জনতুষ্টির’ বাজেটে সর্বত্রই করজাল

‘জনতুষ্টির’ বাজেটে সর্বত্রই করজাল
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিপর্যস্ত আর্থিক খাত সংস্কার, দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাসহ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে এই বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এবারের বাজেটে একদিকে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে শক্তিশালী রাখতে দেশের প্রায় প্রতিটি নাগরিককেই নিয়ে আসা হচ্ছে করের আওতায়।

আপাতদৃষ্টিতে একে প্রান্তিক মানুষের মন জয়ের বা ‘জনতুষ্টির বাজেট’ মনে হলেও, এর গভীরে রয়েছে সর্বত্র করজাল বিস্তারের এক কঠোর বাস্তবমুখী পরিকল্পনা। উন্নয়ন ও জনকল্যাণের এই দ্বিমুখী স্রোতকে ধারন করেই প্রণীত হয়েছে এবারের বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমান ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় টাকার অঙ্কে বাজেটের আকার বাড়ছে ১ হাজার ৪৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

সরকার অর্থ সংকট কাটানোর জন্য আয় বাড়াতে গিয়ে বাজেটে বেশির ভাগ পণ্য ও সেবা খাতে রাজস্ব আরোপ করছে। তবে নতুন সরকার প্রথম বাজেটে অনেকের দাবি মানতে গিয়ে অনেক খাতে রাজস্ব ছাড় দেওয়ার চেষ্টাও করছে। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়, যার বেশির ভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বাজেটে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার হিসাব কষা হবে।

২০২৬ সালের ঘোষিত বাজেট সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বাজেটের বেশ কিছু ইতিবাচক ও দূরদর্শী উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে এর মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী মুদ্রানীতির সাথে রাজস্ব নীতির সমন্বয় ঘটানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যে মাত্রায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা না গেলে বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করে ঘাটতির অর্থায়নকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখা। বাজেটের চমৎকার ও আধুনিক পরিকল্পনাগুলো কাগজে-কলমে খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে সামগ্রিকভাবে বাজেট বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই দুই জায়গাতেই সরকারকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ভ্যাট ফাঁকি রোধে ই-ভ্যাট চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। দেশের সাধারণ মানুষ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভ্যাট প্রদান করলেও, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সেই ভ্যাটের একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না। ই-ভ্যাট ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে এই ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, বাজেটে 'উদ্ভাবনী অর্থনীতি' এবং স্ব-কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। এছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্টার্টআপ, কনটেন্ট তৈরি এবং ডিজাইনের মতো খাতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ডসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষার নতুন দিগন্ত: ফ্যামিলি ও নারী কার্ড

এবারের বাজেটে সবচেয়ে প্রশংসনীয় ও মানবিক দিক হলো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তা বিবেচনা করে সরকার নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ডের আওতা অনেক বাড়িয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে লাখ লাখ পরিবার চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে সরাসরি ক্রয়ের সুবিধা পাবে, যা তাদের দৈনিক বেঁচে থাকার লড়াইকে কিছুটা হলেও সহজ করবে।

এর পাশাপাশি, বাজেটে নারী উন্নয়নের বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে চালু করা হচ্ছে ‘নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড’। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও অর্থনৈতিক মূলধারায় তাদের অংশগ্রহণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারীরা সরাসরি আর্থিক অনুদান, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ পাবেন। সরকারের এই দুটি উদ্যোগ দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মনে বড় ধরনের স্বস্তি ও আশার আলো সঞ্চার করেছে।

রাজস্ব আদায়ের কঠোর লক্ষ্য: সর্বত্রই করের জাল

সামাজিক সুরক্ষার এই জনবান্ধব রূপের ঠিক উল্টো পিঠেই রয়েছে রাজস্ব আদায়ের এক বিশাল ও কঠিন লক্ষ্যমাত্রা। সরকার কল্যাণমূলক কাজের জন্য যে বিপুল অর্থ ব্যয় করবে, তার সিংহভাগই আসবে দেশের ভেতর থেকে অর্থাৎ জনগণের পকেট থেকে। আর এই কারণেই এবারের বাজেটে করের আওতা এতটাই বিস্তৃত করা হয়েছে যে, দেশের প্রায় কোনো পেশা বা স্তরের মানুষই এর বাইরে থাকছে না।

ছোট ব্যবসায়ীরাও করজালে

আগে যেখানে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ বা বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান করের মূল উৎস ছিল, এবার সেই বৃত্ত ভেঙে ছোট ছোট ব্যবসায়ী, সাধারণ চাকরিজীবী এবং বিভিন্ন সেবা খাতকেও করজালের আওতায় আনা হয়েছে।

দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি সেবার ওপর পরোক্ষ কর বা ভ্যাটের বোঝা আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফলে একজন নাগরিক যখন বাজার থেকে পণ্য কিনবেন বা কোনো সেবা নেবেন, তখন অজান্তেই তাকে কর দিতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সর্বব্যাপী করজাল শেষ পর্যন্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৌশলে ব্যাংক হিসাবধারীদের করজালে আনা হচ্ছে। ছোট মাপের দোকানিদেরও ভ্যাটের আওতায় আনা হচ্ছে। এভাবে সারা দেশে রাজস্ব জালের আওতায় অনেক মানুষকে আনার ছক কষা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাড়বে মূল্যস্ফীতি। অন্যদিকে নতুন অর্থবছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। অন্য সব বাদ দিয়ে শুধু এই দুই কারণেই অনেক কিছুর দাম ও খরচ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এসব কিছুই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ বলেন, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। অর্থ-সংকটে নিয়মিত খরচ চালিয়ে যাওয়াও সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আগামী বাজেটে খরচ কমানোর প্রত্যাশা করলেও তা বাস্তবায়ন হবে না বলে মনে করেন তিনি।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে কর মওকুফ না করে কিছুটা কমিয়ে বহাল রাখা হয়েছে। এতে দাম তেমন কমবে না।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অনেক সরঞ্জাম আমদানিতে রাজস্ব আরোপ করা হয়েছে। এতে গোটা স্বাস্থ্য খাতে খরচ বাড়বে। তবে রাজস্বের পরিমাণ, হার ও আওতা বাড়িয়ে কিছু খাতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে করছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে হ্রাস করা হবে। উৎসে করের উচ্চহারের কারণে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে।

কম্পিউটার, প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডেটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি এবং কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার ৫ শতাংশ ও ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নমিয়ে আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে।

রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে ‘রিসাইকেল’ করা পণ্য ও কাঁচামালে কর হার ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে হ্রাস, বিটিআরসি কর্তৃক প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার করা হবে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে হ্রাস করা হবে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের ব্যয় কমানোর স্বার্থে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে করের হার ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে কর ভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সংগৃহীত এ অগ্রিম করের পরিমান প্রতি ১ হাজার টাকায় ২ টাকা করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দাখিল করার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে করের জাল আরও বাড়বে।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈশ্বিক মানের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং উচ্চমানের কন্টেন্ট ও চলচ্চিত্র নির্মাণসামগ্রী যেন তরুণদের নাগালের মধ্যে থাকে, সে জন্য বাজেটে কতিপয় পণ্যে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে এসব খাতকে রাজস্ব জালের আওতায় আনা হয়েছে।

‘জনতুষ্টি’ ও করজালের টানাপোড়েন

এবারের বাজেট বিশ্লেষণ করলে একটি সুস্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যায়। সরকার একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের মতো সুবিধার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতকে শক্তিশালী করতে চাচ্ছে, অন্যদিকে কর ও ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়ে তাদের পকেট থেকেই সেই টাকা তুলে নিচ্ছে।

তবে বাস্তবতার নিরিখে বিচার করলে, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার খরচ মেটাতে করের পরিধি বাড়ানোর কোনো বিকল্প সরকারের হাতে ছিল না। বড় চ্যালেঞ্জটি হলো- কর আদায়ের এই কঠোর প্রক্রিয়ার কারণে যেন সাধারণ মানুষের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’র মতো অবস্থা না হয়।

এ বাজেট যেমন একদিকে সাধারণ মানুষের আপদকালীন বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করেছে, তেমনি দেশের নাগরিকদের কর দেওয়ার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত করার একটি বড় উদ্যোগও বটে। এই বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য শেষ পর্যন্ত কতটা স্বস্তিদায়ক হবে, তা নির্ভর করছে কর আদায়ের স্বচ্ছতা এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাগুলো প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে সঠিকভাবে পৌঁছানোর ওপর।

যদি করের বোঝা সাধারণ মানুষের সহ্যক্ষমতার মধ্যে রাখা যায় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়, তবেই এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

/বিবি/