শিরোনাম

বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিয়ে কী ভাবছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিয়ে কী ভাবছেন জাবি শিক্ষার্থীরা
(উপরের বাম পাশ থেকে) শেখ সাদী, ফেরদৌস আল হাসান, কাজী মৌসুমী আফরোজ ও মোহাম্মদ রুবেল

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বরাবরের মতো এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকায় এর যথার্থতা ও কার্যকারিতা নিয়ে মতামত জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। কেউ এটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণা সম্প্রসারণের প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাবি শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মীর মশাররফ হোসেন হলের সভাপতি শেখ সাদী শিক্ষাখাতের বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠীই আগামীর সমৃদ্ধ, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই শিক্ষাখাতে রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ নিঃসন্দেহে একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষাক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে এবং আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লেই হবে না, এর সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। দেশের মোট জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় এখনও কম। আমরা চাই এই অর্থ শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হোক। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ এবং পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এই বরাদ্দের সুফল পায়। একটি দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক জাতি গঠনের জন্য শিক্ষা খাতে আরও বিনিয়োগ এবং তার স্বচ্ছ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মৌসুমী আফরোজ বলেন, শিক্ষাখাতে এই বরাদ্দ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিগত বছরগুলোর তুলনায় শিক্ষার প্রতি সরকারের এই বাড়তি গুরুত্ব দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আমরা লক্ষ্য করছি, ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হয়েছে। একটি উন্নত, জ্ঞানভিত্তিক ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য সরকার গ্রহণ করেছে, এই বাজেট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা খাতে এই রেকর্ড বরাদ্দ দেশের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ প্রদানে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট বৃদ্ধির এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, এই বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সমস্যা দূর হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ পাবে। একজন শিক্ষার্থী হিসাবে আমি মনে করি, শিক্ষা খাতে এ ধরনের রেকর্ড বরাদ্দ দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি সাহসী, সময়োপযোগী ও দূরদর্শী বিনিয়োগ। সরকারের এই পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই এবং আশা করি এর সুফল দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল এবারের বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। এই বাজেটে শুধু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোগত খাতে গুরুত্বারোপ করা হয়নি। এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদান নিঃসন্দেহে সরকারের একটি যুগান্তকারী ও শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত। জাতির মেধা, মানবসম্পদ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো এই শিক্ষা। তারেক রহমানের সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে বাস্তবমুখী বাজেট গ্রহণ করেছে, তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে এই বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সঠিক বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই উদ্যোগের সুফল শিক্ষার্থী-জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। সেজন্য সরকারের তদারকি যেমন স্বচ্ছ তেমনি জবাবদিহিমূলক হতে হবে।

/এমআর/