শিরোনাম

কখন হাঁটা উচিত, সকালে নাকি বিকাল

সিটিজেন ডেস্ক
কখন হাঁটা উচিত, সকালে নাকি বিকাল
ছবি: সংগৃহীত

হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম, যা সহজ হলেও শরীর সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর। ওজন কমানো থেকে শুরু করে হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কিংবা রক্তে চর্বির মাত্রা কমানো—সব ক্ষেত্রেই নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব অনেক। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, হাঁটার জন্য কোন সময়টা বেশি উপকারী—সকাল নাকি বিকাল?

সকালের হাঁটা শরীর ও মনকে নতুনভাবে চাঙা করে তোলে। ভোরের নির্মল বাতাস ফুসফুসকে সতেজ করে এবং চারপাশের শান্ত পরিবেশ মনকে প্রশান্তি দেয়। দিনের শুরুতেই হাঁটতে বের হলে শরীরে এক ধরনের ইতিবাচক শক্তি কাজ করে। যা সারাদিন কর্মস্পৃহা বাড়াতে সাহায্য করে।

অনেকে সকালে খালি পেটে বা নাশতার আগে হাঁটেন। যাদের পেটের মেদ বেশি, তাদের জন্য সকালের হাঁটা বেশ উপকারী। এ সময় শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে, যা চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

ভোরের নরম রোদ শরীরের জন্য ভিটামিন ডির ভালো উৎস। এটি হাড় মজবুত রাখতে ও ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি যারা নিয়মিত সকালে হাঁটেন, তাদের ঘুমের রুটিনও সাধারণত ভালো থাকে। তাড়াতাড়ি ঘুমানো ও ভোরে ওঠার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়িকে ঠিক রাখে।

সকালের হাঁটা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। আর দিনের শুরুতেই হাঁটা শেষ হয়ে গেলে পরে কাজের চাপ বা ব্যস্ততার কারণে ব্যায়াম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

অন্যদিকে, অনেকের জন্য বিকেলের হাঁটা বেশি সুবিধাজনক। যারা রাত জেগে কাজ করেন বা সকালে অফিস, সন্তানদের স্কুলসহ নানা ব্যস্ততায় থাকেন, তাদের জন্য বিকেলের সময়টাই উপযোগী হতে পারে।

বিকেলে হাঁটলে দিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং মানসিক চাপ কমে। এতে মন শান্ত থাকে ও রাতের ঘুমও ভালো হয়। বিশেষ করে খাবারের পর হাঁটলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

বিকেলের হাঁটা হজমশক্তি উন্নত করতেও সহায়তা করে। যাদের অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার সমস্যা আছে, তারা এতে স্বস্তি পেতে পারেন। একই সঙ্গে সারাদিনে জমে থাকা ক্যালরিও খরচ হয়, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া বিকেলে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটার সুযোগ বেশি থাকে। এতে শরীরচর্চার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়।

সকাল বা বিকাল কোন সময় হাঁটবেন, তা নির্ভর করে আপনার জীবনযাপন ও সময়সূচির ওপর। সকালের হাঁটা যেখানে ফ্যাট কমাতে বেশি সহায়ক, সেখানে বিকালের হাঁটা রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত হাঁটা। যে সময়ই বেছে নেন না কেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাহলেই শরীর ও মন দুটোই থাকবে সুস্থ ও প্রাণবন্ত।

/এসবি/