শিরোনাম

কানের ক্যান্সার: অবহেলা করলে হতে পারে প্রাণঘাতী

কানের ক্যান্সার: অবহেলা করলে হতে পারে প্রাণঘাতী
প্রতীকী ছবি

ক্যান্সার শরীরের যে কোনো অংশে হতে পারে, তবে কানের ক্যান্সার অত্যন্ত বিরল হওয়ায় অনেকেই এটি সাধারণ কানের ব্যথা ভেবে এড়িয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কানের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সাধারণ কানের ব্যথাকে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

কানের ব্যথা একটি পরিচিত সমস্যা এবং সাধারণত ওষুধ বা কানের ড্রপে সেরে যায়। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও যদি কয়েক দিনের মধ্যে ব্যথা আবার ফিরে আসে, তবে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে ব্যথা যদি তীব্র, একটানা ও অসহ্য হয়, তাহলে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অনেক ক্ষেত্রে কানের বাইরের অংশ বা এক্সটারনাল ইয়ারে ত্বকের ক্যান্সার হিসেবে রোগটির শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে ভেতরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

আবার কখনো কানের গহ্বর বা কর্ণনালীতে টিউমার তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ইয়ার ক্যানাল ক্যান্সার। মিডল ইয়ার বা মধ্যকর্ণ আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

কানের ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণসমূহ

  • অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ
  • কান থেকে বারবার রক্তপাত হওয়া
  • লালচে বা পুঁজের মতো ঘন তরল বের হওয়া

শ্রবণশক্তি হ্রাস

  • হঠাৎ কানে কম শোনা
  • সারাক্ষণ কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া (টিনিটাস)

তীব্র যন্ত্রণা

  • কানের ভেতরে বা আশপাশে একটানা প্রচণ্ড ব্যথা
  • মাথা, চোয়াল বা ঘাড় পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে

অন্যান্য জটিল লক্ষণ

  • কানের পাশের অংশে ফোলা ভাব
  • মুখের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া
  • গুরুতর ক্ষেত্রে কানের আশপাশে চুল পড়ে যাওয়া

প্রতিকার ও সচেতনতা

কানের ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো প্রাথমিক লক্ষণ চিনতে না পারা।

কানের ময়লা (সেরুমেন)-এর রঙ বা গন্ধে পরিবর্তন হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

দীর্ঘদিন ধরে কানে কোনো অস্বস্তি থাকলে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব।

সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তাই কানের কোনো সমস্যা অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিন ও সুস্থ থাকুন।

/এসএনআর/জেএইচ/