শিরোনাম

হাওরের ফসল ডুবে কৃষকের সর্বনাশ

সিটিজেন ডেস্ক
হাওরের ফসল ডুবে কৃষকের সর্বনাশ
ছবি: এআই

হাওর অঞ্চলে এবার বোরো ধানের ফলন অনেক ভালো হবে বলে আশা করেছিলেন কৃষকেরা। হাওর-অধ্যুষিত জেলাগুলোর অনেক স্থানে ধান পেকে গিয়েছিল। তবে টানা

বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওয়ের অধিকাংশ এলাকার বোনো ধান ডুবে গেছে। পানিতে ধান নষ্ট হওয়ায় ফলন অনেব কমে যাবে। এতে কৃষকের যেমন লোকসান হবে তেমনি বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটবে। উৎপাদন কম হওয়ায় চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করেছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশের মোট চালের অর্ধেকের বেশি আসে শুষ্ক মৌসুমের সেচনির্ভর বোরো ধান থেকে। এর মধ্যে কেবল হাওরে-অধ্যুষিত ৭টি জেলা থেকেই আসে জাতীয় উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, এ বছর সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত এর প্রায় ১৭ শতাংশ বা ৭৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি তলিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। যদিও ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কৃষকরা হাওরের প্রায় ৬৪ শতাংশ ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছেন, তবুও অবশিষ্ট ফসল বাঁচাতে তাদের রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, রবিরারের (৩ মে) মধ্যে হাওর অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই এবং ভোগাই-কংস নদীর পানি প্রাক-বর্ষার বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং এই সময়ে ১৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। আগামী ৫ মে থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রোর কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) চলতি মৌসুমে জাতীয় চাল উৎপাদন শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছে।

অন্যদিকে কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, সার সংকট এবং এই অকাল বন্যার কারণে হাওরে বোরো উৎপাদন ২০ শতাংশ এবং জাতীয়ভাবে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

উৎপাদনের এ সম্ভাব্য ঘাটতি চালের বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না। নওগাঁর প্যাডি অ্যান্ড রাইস স্টকিস্টস অ্যান্ড হোলসেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা জানান, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সবেমাত্র ধান কাটা শুরু হয়েছে। সেখানে ফলন ভালো হলে তা হাওরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। তবে প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি বুঝতে আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না। দু-তিন দিনের শুষ্ক আবহাওয়া পেলেই অবশিষ্ট ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবদুল বায়েস জানান, সরকারের কাছে থাকা প্রায় ১৩ লাখ টন চালের মজুত জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের দাম বৃদ্ধি ও অস্থিরতা রোধ করতে সহায়তা করবে। তবে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তাই কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে একটি নির্ধারিত সংগ্রহ মূল্যের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে ধান বিক্রির সুযোগ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ২৯ এপ্রিল খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন থেকে সরকারি সহায়তায় তাদের ধান শুকাতে বিভিন্ন বেসরকারি রাইস মিল ও সরকারি গুদাম ব্যবহার করতে পারবেন। সরকারি পর্যায়ে ধান সংগ্রহ সর্বোচ্চ করতে মিলমালিকদেরও দ্রুত ধান কিনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

/এমএকে/