শিরোনাম

জিআই স্বীকৃতির পরও পরিকল্পনায় আটকে আছে পনিরের বিকাশ

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
জিআই স্বীকৃতির পরও পরিকল্পনায় আটকে আছে পনিরের বিকাশ
পনির। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ অষ্টগ্রামের পনির জিআই স্বীকৃতি পেয়ে তৈরি করেছে নতুন সম্ভাবনা। তবে স্বীকৃতির প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও শিল্প বিকাশে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় হতাশ সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন বলছে, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অষ্টগ্রামের পনির কারিগর নিশান জানান, অষ্টগ্রাম থেকে পনির নিয়ে ঢাকা বিক্রি করতো তারা। নওয়াবরাও এ পনির খেতো।

অষ্টগ্রামের পনির একসময় প্রায় বাড়িতেই তৈরি হতো। এখন সেভাবে আর তৈরি হয়নি। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও এই পণ্যকে ঘিরে নেই কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ। সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পনির।

পনির ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার যদি বিনা সুদে ঋণ দিতো তাহলে আরও ভালো হতো। পনির তৈরি প্রক্রিয়াটিও বেশ শ্রমসাধ্য। প্রায় ১০ লিটার দুধ থেকে পাওয়া যায় মাত্র এক কেজি পনির। স্থানীয় বাজারে এই পনির বিক্রি হয় ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জিআই স্বীকৃতি পেলেও বাজার সম্প্রসারণে নেই তেমন উদ্যোগ। এখান থেকে পনির সারা বাংলাদেশেই যায়। আগে চাহিদা কম ছিলো। এখন চাহিদা অনেক বেশি।

জেলা প্রশাসন জানায়, পনির সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, পনির সংরক্ষণের জন্য আমরা একটা উদ্যোগ নেবো। দ্রুতই এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

তিন শতকের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে টিকে আছে অষ্টগ্রামের পনির। তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে জিআই স্বীকৃতির গৌরব থাকলেও হারিয়ে যেতে পারে এই শিল্প। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এর বিকাশে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

/এসআর/