শিরোনাম

এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
পটুয়াখালী সংবাদদাতা
এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা
কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া।

এর আগে, গতকাল সোমবার কলাপাড়া উপজেলার খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রজাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন একটি ভেকু (খননযন্ত্র), ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজাপাড়া মৌজার ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।

খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে বাধা দেন। এসময় নুরুজ্জামান কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, পরে অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত, প্রায় ছয় শতাংশ জমির অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলিযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। ওই জমিতে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন তারা। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলার বাদী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম জানান, রজপাড়া মৌজার বিভিন্ন দাগে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমির প্রকৃত মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে সীমানা নির্ধারণ করে এই জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কাফি ও তার পরিবার সম্মত হননি। কলাপাড়া থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। আমরা বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ‌‘জমিটির ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আমি বায়নামূলে জমি কিনেছি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সঙ্গে আমার কোনো সামনাসামনি দেখা বা কথাবার্তা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’

বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া বলেন, ‘মামলাটি রুজু হয়েছে। আদালত তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দিতে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

/এফআর/