তিন মাসের মধ্যে ব্যবসার সব বাধা সমাধান হবে: অর্থমন্ত্রী

তিন মাসের মধ্যে ব্যবসার সব বাধা সমাধান হবে: অর্থমন্ত্রী
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাসমূহ দূরীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশাপাশি, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সচেষ্ট থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এবং পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (চলতি দায়িত্ব) আব্দুর রহিম খান। এফবিসিসিআই, রিহ্যাবসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরাও এতে নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করে জানালে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেগুলোর সমাধান করা হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আগামী বাজেটে করের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দেওয়ার সুযোগ সীমিত বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে করের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ব্যবসা সহজ করতে যেসব আনুষঙ্গিক বাধা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দূর করা হবে। কোথায় কোথায় ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কী কারণে ব্যয় বাড়ছে- এসব নির্দিষ্টভাবে আমাদের জানান। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হোক বা অন্য কোনো সমস্যা আপনারা আমাদের জানান, আমরা তিন মাসের মধ্যে সমাধান করবো।
বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন বিনিয়োগ দরকার। বাজেট বড় করা না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। আবার উন্নয়ন বাজেটও বাড়াতে হবে। নইলে দেশজ উন্নয়নের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে না।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ যেমন দরকার, তেমনি বিনিয়োগের রিটার্নও দরকার। মেগা প্রকল্প করে অর্থ পাচার করলে তো সমস্যা।
অর্থমন্ত্রী বলেন,চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা মাশুল ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির দরকার ছিল না। বন্দরে দুর্নীতি বন্ধ ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সব বাধা সরিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে নতুন সরকারকে বাড়তি প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সময় চাওয়া হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফকে জানিয়েছি, আমাদের দুই বছরের কুশন দরকার। কুশন মানে হচ্ছে খারাপ সময়ে টিকে থাকার জন্য নিরাপদ প্রস্তুতি। তৃতীয় বছর থেকে অর্থনীতি গতি পাবে।
তৈরি পোশাক খাত ভালো করলেও স্বর্ণ বা হিরাশিল্পের মতো অন্যান্য খাত পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে পিছিয়ে থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এখন থেকে যেকোনো সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত যদি প্রস্তাব দেয়, তবে তাদের পোশাকশিল্পের সমান সুবিধা দেওয়া হবে। চুরির ভয়ে আমরা খাতগুলো আটকে রাখব না। চুরির সমাধান আলাদাভাবে হবে, কিন্তু ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড ও ওয়ার ওয়ালেট—এমন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করদাতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ কমানো হবে। যা দুর্নীতি কমাবে। মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি ডিজিটাল প্রকল্প পাস হয়েছে।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারগুলোকে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা কর জালের বাইরে থেকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছেন, তাদের করের আওতায় আনতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রয়োজন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি নয়, বরং অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণে বিশ্বাসী বর্তমান সরকার। এছাড়া আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, যা বর্তমান অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং সামগ্রিক উন্নয়নও জরুরি। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও লজিস্টিক খাতেও নানা সমস্যা রয়েছে। যা সমাধানে বেসরকারি খাতের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব প্রত্যাশা করছে সরকার।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি বৃদ্ধি করা না গেলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন , স্বর্ণখাতকে সুশৃঙ্খল ও আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা গেলে বছরে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার এবং নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা এখন অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নতুন বিনিয়োগ নয়, বিদ্যমান শিল্প ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বেসরকারি খাতের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আসন্ন বাজেটে তাদের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে হবে। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক খাতেও বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাত থেকে নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা আশা করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সঠিক হাতে রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক প্রতিফলন দেশবাসী দেখতে পাবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই –এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। তিনি কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারকে করনীতি, কর পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ, আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে নেট বা কর জাল সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে ইডিএফ (রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) এর পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সকল রপ্তানি খাতের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
সভার উন্মুক্ত আলোচনায় বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে অংশ নেয়া ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তাদের যৌক্তিক প্রস্তাব ও সুপারিশসমূহ বিবেচনায় রেখে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়নের আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সভায় এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে- আগামী বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ, করপোরেট কর হ্রাস, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা, উৎসে আয়কর কর্তনের হার যৌক্তিকীকরণ, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের উপর উৎসে কর হ্রাস, টার্নওভারের উপর ন্যূনতম কর হ্রাস এবং ধাপে ধাপে শূণ্যে নামিয়ে আনা, স্থানীয় পর্যায়ে সকল পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসকের হার ২ শতাংশ নির্ধারণ করা, দেশে উৎপাদিত হয় না এমন ধরনের শিল্পের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানীতে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ এবং দেশে উৎপাদিত হয় এমন ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানীতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) এবং মাঝারি করদাতা ইউনিট (এমটিইউ) স্থাপনসহ বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, এফবিসিসিআই’র সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক পরিচালকবৃন্দ, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাসমূহ দূরীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশাপাশি, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সচেষ্ট থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এবং পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (চলতি দায়িত্ব) আব্দুর রহিম খান। এফবিসিসিআই, রিহ্যাবসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরাও এতে নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করে জানালে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেগুলোর সমাধান করা হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আগামী বাজেটে করের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দেওয়ার সুযোগ সীমিত বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে করের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ব্যবসা সহজ করতে যেসব আনুষঙ্গিক বাধা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দূর করা হবে। কোথায় কোথায় ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কী কারণে ব্যয় বাড়ছে- এসব নির্দিষ্টভাবে আমাদের জানান। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হোক বা অন্য কোনো সমস্যা আপনারা আমাদের জানান, আমরা তিন মাসের মধ্যে সমাধান করবো।
বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন বিনিয়োগ দরকার। বাজেট বড় করা না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। আবার উন্নয়ন বাজেটও বাড়াতে হবে। নইলে দেশজ উন্নয়নের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে না।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ যেমন দরকার, তেমনি বিনিয়োগের রিটার্নও দরকার। মেগা প্রকল্প করে অর্থ পাচার করলে তো সমস্যা।
অর্থমন্ত্রী বলেন,চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা মাশুল ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির দরকার ছিল না। বন্দরে দুর্নীতি বন্ধ ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সব বাধা সরিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে নতুন সরকারকে বাড়তি প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সময় চাওয়া হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফকে জানিয়েছি, আমাদের দুই বছরের কুশন দরকার। কুশন মানে হচ্ছে খারাপ সময়ে টিকে থাকার জন্য নিরাপদ প্রস্তুতি। তৃতীয় বছর থেকে অর্থনীতি গতি পাবে।
তৈরি পোশাক খাত ভালো করলেও স্বর্ণ বা হিরাশিল্পের মতো অন্যান্য খাত পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে পিছিয়ে থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এখন থেকে যেকোনো সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত যদি প্রস্তাব দেয়, তবে তাদের পোশাকশিল্পের সমান সুবিধা দেওয়া হবে। চুরির ভয়ে আমরা খাতগুলো আটকে রাখব না। চুরির সমাধান আলাদাভাবে হবে, কিন্তু ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড ও ওয়ার ওয়ালেট—এমন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করদাতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ কমানো হবে। যা দুর্নীতি কমাবে। মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি ডিজিটাল প্রকল্প পাস হয়েছে।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারগুলোকে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা কর জালের বাইরে থেকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছেন, তাদের করের আওতায় আনতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রয়োজন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি নয়, বরং অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণে বিশ্বাসী বর্তমান সরকার। এছাড়া আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, যা বর্তমান অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং সামগ্রিক উন্নয়নও জরুরি। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও লজিস্টিক খাতেও নানা সমস্যা রয়েছে। যা সমাধানে বেসরকারি খাতের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব প্রত্যাশা করছে সরকার।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি বৃদ্ধি করা না গেলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন , স্বর্ণখাতকে সুশৃঙ্খল ও আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা গেলে বছরে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার এবং নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা এখন অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নতুন বিনিয়োগ নয়, বিদ্যমান শিল্প ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বেসরকারি খাতের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আসন্ন বাজেটে তাদের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে হবে। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক খাতেও বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাত থেকে নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা আশা করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সঠিক হাতে রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক প্রতিফলন দেশবাসী দেখতে পাবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই –এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। তিনি কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারকে করনীতি, কর পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ, আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে নেট বা কর জাল সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে ইডিএফ (রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) এর পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সকল রপ্তানি খাতের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
সভার উন্মুক্ত আলোচনায় বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে অংশ নেয়া ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তাদের যৌক্তিক প্রস্তাব ও সুপারিশসমূহ বিবেচনায় রেখে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়নের আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সভায় এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে- আগামী বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ, করপোরেট কর হ্রাস, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা, উৎসে আয়কর কর্তনের হার যৌক্তিকীকরণ, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের উপর উৎসে কর হ্রাস, টার্নওভারের উপর ন্যূনতম কর হ্রাস এবং ধাপে ধাপে শূণ্যে নামিয়ে আনা, স্থানীয় পর্যায়ে সকল পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসকের হার ২ শতাংশ নির্ধারণ করা, দেশে উৎপাদিত হয় না এমন ধরনের শিল্পের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানীতে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ এবং দেশে উৎপাদিত হয় এমন ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানীতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) এবং মাঝারি করদাতা ইউনিট (এমটিইউ) স্থাপনসহ বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, এফবিসিসিআই’র সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক পরিচালকবৃন্দ, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিন মাসের মধ্যে ব্যবসার সব বাধা সমাধান হবে: অর্থমন্ত্রী
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাসমূহ দূরীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশাপাশি, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সচেষ্ট থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এবং পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (চলতি দায়িত্ব) আব্দুর রহিম খান। এফবিসিসিআই, রিহ্যাবসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরাও এতে নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করে জানালে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেগুলোর সমাধান করা হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আগামী বাজেটে করের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দেওয়ার সুযোগ সীমিত বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে করের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ব্যবসা সহজ করতে যেসব আনুষঙ্গিক বাধা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দূর করা হবে। কোথায় কোথায় ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কী কারণে ব্যয় বাড়ছে- এসব নির্দিষ্টভাবে আমাদের জানান। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হোক বা অন্য কোনো সমস্যা আপনারা আমাদের জানান, আমরা তিন মাসের মধ্যে সমাধান করবো।
বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন বিনিয়োগ দরকার। বাজেট বড় করা না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। আবার উন্নয়ন বাজেটও বাড়াতে হবে। নইলে দেশজ উন্নয়নের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে না।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ যেমন দরকার, তেমনি বিনিয়োগের রিটার্নও দরকার। মেগা প্রকল্প করে অর্থ পাচার করলে তো সমস্যা।
অর্থমন্ত্রী বলেন,চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা মাশুল ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির দরকার ছিল না। বন্দরে দুর্নীতি বন্ধ ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সব বাধা সরিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে নতুন সরকারকে বাড়তি প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সময় চাওয়া হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফকে জানিয়েছি, আমাদের দুই বছরের কুশন দরকার। কুশন মানে হচ্ছে খারাপ সময়ে টিকে থাকার জন্য নিরাপদ প্রস্তুতি। তৃতীয় বছর থেকে অর্থনীতি গতি পাবে।
তৈরি পোশাক খাত ভালো করলেও স্বর্ণ বা হিরাশিল্পের মতো অন্যান্য খাত পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে পিছিয়ে থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এখন থেকে যেকোনো সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত যদি প্রস্তাব দেয়, তবে তাদের পোশাকশিল্পের সমান সুবিধা দেওয়া হবে। চুরির ভয়ে আমরা খাতগুলো আটকে রাখব না। চুরির সমাধান আলাদাভাবে হবে, কিন্তু ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড ও ওয়ার ওয়ালেট—এমন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করদাতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ কমানো হবে। যা দুর্নীতি কমাবে। মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি ডিজিটাল প্রকল্প পাস হয়েছে।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারগুলোকে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা কর জালের বাইরে থেকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছেন, তাদের করের আওতায় আনতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রয়োজন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি নয়, বরং অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণে বিশ্বাসী বর্তমান সরকার। এছাড়া আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, যা বর্তমান অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং সামগ্রিক উন্নয়নও জরুরি। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও লজিস্টিক খাতেও নানা সমস্যা রয়েছে। যা সমাধানে বেসরকারি খাতের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব প্রত্যাশা করছে সরকার।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি বৃদ্ধি করা না গেলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন , স্বর্ণখাতকে সুশৃঙ্খল ও আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা গেলে বছরে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার এবং নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা এখন অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নতুন বিনিয়োগ নয়, বিদ্যমান শিল্প ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বেসরকারি খাতের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আসন্ন বাজেটে তাদের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে হবে। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক খাতেও বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাত থেকে নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা আশা করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সঠিক হাতে রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক প্রতিফলন দেশবাসী দেখতে পাবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই –এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। তিনি কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারকে করনীতি, কর পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ, আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে নেট বা কর জাল সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে ইডিএফ (রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) এর পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সকল রপ্তানি খাতের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
সভার উন্মুক্ত আলোচনায় বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে অংশ নেয়া ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তাদের যৌক্তিক প্রস্তাব ও সুপারিশসমূহ বিবেচনায় রেখে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়নের আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সভায় এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে- আগামী বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ, করপোরেট কর হ্রাস, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা, উৎসে আয়কর কর্তনের হার যৌক্তিকীকরণ, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের উপর উৎসে কর হ্রাস, টার্নওভারের উপর ন্যূনতম কর হ্রাস এবং ধাপে ধাপে শূণ্যে নামিয়ে আনা, স্থানীয় পর্যায়ে সকল পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসকের হার ২ শতাংশ নির্ধারণ করা, দেশে উৎপাদিত হয় না এমন ধরনের শিল্পের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানীতে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ এবং দেশে উৎপাদিত হয় এমন ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানীতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) এবং মাঝারি করদাতা ইউনিট (এমটিইউ) স্থাপনসহ বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, এফবিসিসিআই’র সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক পরিচালকবৃন্দ, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সুদের হার কমিয়ে ব্যবসা বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


