বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৯ বিলিয়ন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৯ বিলিয়ন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২৩: ৩১

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পণ্য আমদানিতে। ফলে বেড়েছে আমদানি খরচ। বিপরীতে কমেছে পণ্য রপ্তানি। ফলে ধারাবাহিকভাবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।
সর্বশেষ গত মার্চে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গিয়ে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের মাস অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি কমে গিয়ে আমদানির পরিমাণ আগের চেয়ে আরো বেড়ে যাওয়ায় মার্চ শেষে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে পারে বলে সে সময়েই আশঙ্কা করা হয়।
বুধবার (৬ মে) বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় গত মার্চে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চে রপ্তানি হয় ৩২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্ত্বক ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের ৯ মাসে রপ্তানি হয় ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে এই সময়ে আমদানি হয় ৫১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা দেয় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে আমদানি হয় ৪৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় আগের অর্থবছরে রপ্তানি বেশি ছিল।
অন্যদিকে গত ৯ মাসের তুলনায় আগের অর্থবছরে ৯ মাসে আমদানির পরিমাণ কম ছিল। যেখানে আমদানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক, সেখানে রপ্তানি নেতিবাচক হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেশি বেড়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের(বিআইবিএম) মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘রপ্তানি তখনো প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ নেগেটিভ গ্রোথ। আর আমদানিতে ৪ দশমিক ৬ পার্সেন্ট গ্রোথ পজিটিভ। ঘাটতি তো বাড়বেই। রেমিটেন্স প্রবাহ বেশি হওয়ায় ও বাকিতে পণ্য আমদানি সম্ভব হওয়ায় সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য এখনো ইতিবাচক আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় বেড়ে যাওয়ায় সামনের দিকে বাণিজ্য ঘাটতি সূচকে উন্নতি হতে পারে।’
রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় আগের চেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণও গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় বেড়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সহায়তাকারি রেমিটেন্স আগে গত ৯ মাসে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিটেন্স আসে ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য লেনদেনে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ কমে আসার সঙ্গে আর্থিক হিসাবে উদ্ধৃত্বের পরিমাণও সামান্য কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়ায় ঋণাত্বক ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ঋণাত্বক ৯৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে আর্থিক হিসাবে গত মার্চ শেষে উদ্বৃত্ব দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার। আর গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৯ মাসে তা ছিল ৫৭ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে বাংলাদেশের সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য উদ্বৃত্ব বেড়ে হয় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে যা ছিল ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য ছিল ঋণাত্বক ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। পরিবহন, ভ্রমণ, সরকারি-বেসরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য অর্থপ্রদান ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেবা খাতের ঘাটতি বেড়েছে। গত ৯ মাসে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ঋণাত্বক ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলর।
আগের মাসে যা ছিল ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে এ ঘাটতি ছিল ঋণাত্ত্বক ৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। গত এক মাসে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পণ্য আমদানিতে। ফলে বেড়েছে আমদানি খরচ। বিপরীতে কমেছে পণ্য রপ্তানি। ফলে ধারাবাহিকভাবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।
সর্বশেষ গত মার্চে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গিয়ে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের মাস অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি কমে গিয়ে আমদানির পরিমাণ আগের চেয়ে আরো বেড়ে যাওয়ায় মার্চ শেষে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে পারে বলে সে সময়েই আশঙ্কা করা হয়।
বুধবার (৬ মে) বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় গত মার্চে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চে রপ্তানি হয় ৩২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্ত্বক ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের ৯ মাসে রপ্তানি হয় ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে এই সময়ে আমদানি হয় ৫১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা দেয় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে আমদানি হয় ৪৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় আগের অর্থবছরে রপ্তানি বেশি ছিল।
অন্যদিকে গত ৯ মাসের তুলনায় আগের অর্থবছরে ৯ মাসে আমদানির পরিমাণ কম ছিল। যেখানে আমদানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক, সেখানে রপ্তানি নেতিবাচক হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেশি বেড়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের(বিআইবিএম) মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘রপ্তানি তখনো প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ নেগেটিভ গ্রোথ। আর আমদানিতে ৪ দশমিক ৬ পার্সেন্ট গ্রোথ পজিটিভ। ঘাটতি তো বাড়বেই। রেমিটেন্স প্রবাহ বেশি হওয়ায় ও বাকিতে পণ্য আমদানি সম্ভব হওয়ায় সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য এখনো ইতিবাচক আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় বেড়ে যাওয়ায় সামনের দিকে বাণিজ্য ঘাটতি সূচকে উন্নতি হতে পারে।’
রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় আগের চেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণও গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় বেড়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সহায়তাকারি রেমিটেন্স আগে গত ৯ মাসে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিটেন্স আসে ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য লেনদেনে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ কমে আসার সঙ্গে আর্থিক হিসাবে উদ্ধৃত্বের পরিমাণও সামান্য কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়ায় ঋণাত্বক ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ঋণাত্বক ৯৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে আর্থিক হিসাবে গত মার্চ শেষে উদ্বৃত্ব দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার। আর গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৯ মাসে তা ছিল ৫৭ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে বাংলাদেশের সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য উদ্বৃত্ব বেড়ে হয় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে যা ছিল ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য ছিল ঋণাত্বক ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। পরিবহন, ভ্রমণ, সরকারি-বেসরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য অর্থপ্রদান ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেবা খাতের ঘাটতি বেড়েছে। গত ৯ মাসে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ঋণাত্বক ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলর।
আগের মাসে যা ছিল ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে এ ঘাটতি ছিল ঋণাত্ত্বক ৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। গত এক মাসে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৯ বিলিয়ন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২৩: ৩১

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পণ্য আমদানিতে। ফলে বেড়েছে আমদানি খরচ। বিপরীতে কমেছে পণ্য রপ্তানি। ফলে ধারাবাহিকভাবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।
সর্বশেষ গত মার্চে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গিয়ে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের মাস অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি কমে গিয়ে আমদানির পরিমাণ আগের চেয়ে আরো বেড়ে যাওয়ায় মার্চ শেষে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে পারে বলে সে সময়েই আশঙ্কা করা হয়।
বুধবার (৬ মে) বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় গত মার্চে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চে রপ্তানি হয় ৩২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্ত্বক ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের ৯ মাসে রপ্তানি হয় ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে এই সময়ে আমদানি হয় ৫১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা দেয় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে আমদানি হয় ৪৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় আগের অর্থবছরে রপ্তানি বেশি ছিল।
অন্যদিকে গত ৯ মাসের তুলনায় আগের অর্থবছরে ৯ মাসে আমদানির পরিমাণ কম ছিল। যেখানে আমদানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক, সেখানে রপ্তানি নেতিবাচক হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেশি বেড়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের(বিআইবিএম) মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘রপ্তানি তখনো প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ নেগেটিভ গ্রোথ। আর আমদানিতে ৪ দশমিক ৬ পার্সেন্ট গ্রোথ পজিটিভ। ঘাটতি তো বাড়বেই। রেমিটেন্স প্রবাহ বেশি হওয়ায় ও বাকিতে পণ্য আমদানি সম্ভব হওয়ায় সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য এখনো ইতিবাচক আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় বেড়ে যাওয়ায় সামনের দিকে বাণিজ্য ঘাটতি সূচকে উন্নতি হতে পারে।’
রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় আগের চেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণও গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় বেড়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সহায়তাকারি রেমিটেন্স আগে গত ৯ মাসে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিটেন্স আসে ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য লেনদেনে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ কমে আসার সঙ্গে আর্থিক হিসাবে উদ্ধৃত্বের পরিমাণও সামান্য কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়ায় ঋণাত্বক ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ঋণাত্বক ৯৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে আর্থিক হিসাবে গত মার্চ শেষে উদ্বৃত্ব দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার। আর গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৯ মাসে তা ছিল ৫৭ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে বাংলাদেশের সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য উদ্বৃত্ব বেড়ে হয় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে যা ছিল ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য ছিল ঋণাত্বক ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। পরিবহন, ভ্রমণ, সরকারি-বেসরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য অর্থপ্রদান ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেবা খাতের ঘাটতি বেড়েছে। গত ৯ মাসে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ঋণাত্বক ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলর।
আগের মাসে যা ছিল ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে এ ঘাটতি ছিল ঋণাত্ত্বক ৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। গত এক মাসে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
/এমআর/




