শিরোনাম

৮০০ কোটির প্রণোদনা হচ্ছে ৭ হাজার কোটি

রাজস্বে ভর করে আসছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজস্বে ভর করে আসছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট
প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার নিজেদের প্রথম বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এতে চলতি অর্থবছরের তুলনায় ব্যয় বরাদ্দ ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঘাটতি কমাতে আদায় করা হবে বিপুল রাজস্ব।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের খসড়া করা বাজেট নথি অনুযায়ী, আসন্ন বাজেটের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯.৩০ লাখ কোটি টাকা। যার জন্য ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এক লাখ কোটি টাকা বেশি আয় করতে হবে, যা সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে এনবিআর। নতুন বাজেটের বড় লক্ষ্যমাত্রাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

নতুন অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ধরা হয়েছে ২.৩৫ লাখ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির প্রায় ৩.৪ শতাংশ। এই বিপুল ঘাটতি পূরণে বাড়তে পারে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ। ইতোমধ্যে, ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ১.১৯ লাখ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১.১৬ লাখ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণে উচ্চ সুদ থাকায় বৈদেশিক ঋণের দিকে আরও এগোতে পারে সরকার।

জানা গেছে, প্রতি বছর বার্ষিক বাজেট ব্যয়ের একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ এবং সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়। এবারের বাজেটেও সুদ পরিশোধের জন্য ১.২৭ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রক্ষেপণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ১.০৫ লাখ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ এবং ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণের সুদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

বরাদ্দ বাড়ছে ভর্তুকি খাতে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩৭ হাজার কোটি, এলএনজি খাতে ৬ হাজার ৫০০ কোটি, সার খাতে ২৭ হাজার কোটি এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

রেমিটেন্সে ৮০০ কোটির প্রণোদনা হচ্ছে ৭ হাজার কোটি

সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে প্রবাসীরা। প্রবাসী আয় বাড়াতে চলতি অর্থবছরের ৮০০ কোটি টাকার প্রণোদনা বাড়িয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অগ্রাধিকার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড

নতুন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যক্রমের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপি সরকার ৪০ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন হবে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

/এফআর/