শিরোনাম

কড়া নাড়ছে ঈদ; শ্রমিকের বেতন ভাতা কতদূর

নিজস্ব প্রতিবেদক
কড়া নাড়ছে ঈদ; শ্রমিকের বেতন ভাতা কতদূর
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ঈদ ঘনিয়ে এলেই তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে সাধারণত শ্রমিক অসন্তোষ বাড়তে দেখা যায়। বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে প্রতিবছরই কোথাও না কোথাও আন্দোলনের ঘটনা ঘটে। তবে এবার সে পরিচিত চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। অধিকাংশ কারখানায় আগেভাগেই পরিশোধ করা হচ্ছে বেতন-বোনাস। ফলে শ্রম অসন্তোষও তুলনামূলকভাবে কম।

মূলত, সরকারের আড়াই হাজার কোটি টাকার নগদ ইনসেনটিভের পাশাপাশি ঋণ সহায়তা পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে তৈরি পোশাক খাতে। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ৯ মার্চের মধ্যে এবং বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে পরিশোধের জন্য কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকও সচল রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর জন্য এক মাসের বেতন সমপরিমাণ ঋণ প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এ খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকারের দেওয়া বিশেষ ঋণসুবিধা ও বকেয়া প্রণোদনার অর্থছাড় পাওয়ায় এ পরিবর্তন এসেছে। ফলে কারখানার মালিকেরা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। যদিও বেতন ও বোনাস পরিশোধের ব্যাপারে সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তবে এখনো শতভাগ পোশাক কারখানা বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেনি।

গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে ৯৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ৯৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু রয়েছে মোট ২ হাজার ১২৭টি কারখানা। যার মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৭৮৫টি ও চট্টগ্রামে ৩৪২টি। ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১০৪টি কারখানা, যা শতকরা ৯৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭৬৭টি ও চট্টগ্রামের ৩৩৭টি কারখানা।

ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে মোট ২ হাজার ৮০টি কারখানা, যা শতকরা ৯৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭৫৩ টি ও চট্টগ্রামের ৩২৭টি কারখানা। এছাড়া মার্চ মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধ করবে মোট ৮৭০টি কারখানা, যা শতকরা ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকার ৮৪০টি ও চট্টগ্রামের ৩০টি কারখানা।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বেশিরভাগ গার্মেন্টস কারখানা ঈদের আগে ১৮ তারিখ পর্যন্ত খোলা থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধ সম্পন্ন করার জন্য মালিকপক্ষ কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবার ঈদের আগেই শতভাগ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে আগামীকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আশা করিছ সেখানে ভালো সংবাদ জানাতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, অনেক কারখানা সরাসরি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কারখানার পরিস্থিতি বিজিএমইএ পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে পোশাক শ্রমিক নেতা তাছলিমা আখতার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আমরা আশা করছি এ বছর পোশাক শ্রমিকরা প্রায় শতভাগ বেতন-বোনাস পাবেন। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি আমরা নিয়মিত এ বিষয়ে তদারকি করছি। তবে দুই-তিনটি চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক পোশাক কারখানা একটু খারাপ অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সিটিজেন জার্নালকে জানান, প্রণোদনার অর্থ ও বিশেষ ঋণসুবিধা পাওয়ায় এবার কারখানার মালিকেরা আগেভাগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে।

তিনি বলেন, সমস্যাগ্রস্ত কিছু কারখানার জন্য অতিরিক্ত আরও ৬৫ কোটি টাকাও ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা বেতন-বোনাসে যুক্ত হচ্ছে।

/জেএইচ/