শিরোনাম

প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে অভিভাবকদের মানববন্ধন

নেত্রকোনা  সংবাদদাতা
প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে অভিভাবকদের মানববন্ধন
বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন। ছবি: সংবাদদাতা

অশালীন আচরণ, জোরপূর্বক স্কুল ড্রেস বিক্রি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক সৈয়দা সুরাইয়া বেগম শেলীর অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেন অভিভাবক ও শিশু শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানবন্ধন করা হয়।

অভিভাবকরা জানান, স্বেচ্ছাচারি ও দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাবেন না। আমরা তার (প্রধান শিক্ষক) অপসারণ চাই।

তারা আরও জানান, কোনো বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মতবিরোধ হলে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া তিনি স্কুল ড্রেসের ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নিজের ইচ্ছা মতো বারবার ড্রেস নির্ধারণ করায় অভিভাবকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

পারভীন আক্তার নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার তিন নাতি এই স্কুলে পড়াশোনা করে। জানুয়ারির শুরুতে স্কুল ড্রেস বানাতে বলা হলে বাজার থেকে দুইজনের ড্রেস বানিয়ে আনি। কয়েকদিন পর প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ড্রেসের রং পরিবর্তন হয়েছে। তার কাছ থেকে নতুন ড্রেস কিনতে হবে। অপরাগতা প্রকাশ করলে প্রধান শিক্ষক কটাক্ষ করে বলেন, এতো বাচ্চা কেন জন্ম দিয়েছেন? ড্রেস না কিনলে শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষকের আচরণ খুবই খারাপ। এমন কোনো অভিভাবক নেই যার সঙ্গে তিনি খারাপ আচরণ করেননি। একটা প্রশংসাপত্র নিতে গেলে ৫০ টাকা দিতে হয়। সৃজনী বাবদ ১৫ থেকে ৩০ টাকা নেন। টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বের করে দেন। এসব নিয়ে অসংখ্যবার দেনদরবার হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি– আপনারা স্কুলটাকে বাঁচান।

মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, অভিভাবকদের দেওয়া অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। উভয়পক্ষকে ডেকে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

/এসআর/