ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনে মৃত্যুর তথ্য যাচাই চলছে

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনে মৃত্যুর তথ্য যাচাই চলছে
সিজেডএন ডেস্ক

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর এ তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন এমন কোনো তথ্যের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাইনি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ থাকলে আমাকে দেখান, আমি যাচাই করে দেখব। আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেই তথ্যও সঠিক কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।’
একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ছয়জনের মৃত্যুর খবর প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, তথ্য নিশ্চিত না হয়ে কোনো খবর প্রচার করা উচিত নয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের যে তালিকা তাঁকে দেখানো হয়েছে, সেখানে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নেই। তাঁর কাছে থাকা আরেকটি তালিকাও যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মর্গের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে মর্গের তথ্যের সঙ্গে অন্য কিছু তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সব তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই প্রকৃত পরিস্থিতি ও হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানও সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি যাঁদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ছয়জনের মৃত্যুর তথ্যের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখন সেই তথ্যই যাচাই করার জন্য সবাই সরেজমিনে এসে তদন্ত করছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামার সময় কয়েকজন আহত হন।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের নতুন ভবনে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। মোট ১০টি ইউনিট সেখানে কাজ করে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরই আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগায় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ব্যাপ্তি বড় না হলেও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছিল। তবে হাসপাতালের নতুন ভবনটি থেকে দ্রুত বের হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ভবনটির পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে একটি খোলা ছিল বলে জানা গেছে। অন্য চারটি সিঁড়ি সব সময় তালাবদ্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনদের কয়েকজনও সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বাঁশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা দুলাল মিয়া গত বুধবার তার স্ত্রী জোসনা বেগমকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার দুই মেয়ে ও তিন নাতনি আহত হন। তাদের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নিচে নামতে না পেরে আতঙ্কের মধ্যে মেঝেতে অবস্থান করেন।
ফুলবাড়িয়ার সাথী বেগমও আজ বিকালে তার বাবাকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে পারছিলেন না। সিঁড়ির কয়েকটি ফটক বন্ধ থাকায় একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হন।
রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহসান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বৈঠক করেন। পরে সোয়া ১০টার দিকে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনের জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর এ তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন এমন কোনো তথ্যের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাইনি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ থাকলে আমাকে দেখান, আমি যাচাই করে দেখব। আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেই তথ্যও সঠিক কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।’
একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ছয়জনের মৃত্যুর খবর প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, তথ্য নিশ্চিত না হয়ে কোনো খবর প্রচার করা উচিত নয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের যে তালিকা তাঁকে দেখানো হয়েছে, সেখানে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নেই। তাঁর কাছে থাকা আরেকটি তালিকাও যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মর্গের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে মর্গের তথ্যের সঙ্গে অন্য কিছু তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সব তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই প্রকৃত পরিস্থিতি ও হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানও সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি যাঁদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ছয়জনের মৃত্যুর তথ্যের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখন সেই তথ্যই যাচাই করার জন্য সবাই সরেজমিনে এসে তদন্ত করছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামার সময় কয়েকজন আহত হন।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের নতুন ভবনে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। মোট ১০টি ইউনিট সেখানে কাজ করে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরই আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগায় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ব্যাপ্তি বড় না হলেও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছিল। তবে হাসপাতালের নতুন ভবনটি থেকে দ্রুত বের হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ভবনটির পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে একটি খোলা ছিল বলে জানা গেছে। অন্য চারটি সিঁড়ি সব সময় তালাবদ্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনদের কয়েকজনও সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বাঁশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা দুলাল মিয়া গত বুধবার তার স্ত্রী জোসনা বেগমকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার দুই মেয়ে ও তিন নাতনি আহত হন। তাদের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নিচে নামতে না পেরে আতঙ্কের মধ্যে মেঝেতে অবস্থান করেন।
ফুলবাড়িয়ার সাথী বেগমও আজ বিকালে তার বাবাকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে পারছিলেন না। সিঁড়ির কয়েকটি ফটক বন্ধ থাকায় একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হন।
রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহসান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বৈঠক করেন। পরে সোয়া ১০টার দিকে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনের জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনে মৃত্যুর তথ্য যাচাই চলছে
সিজেডএন ডেস্ক

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর এ তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন এমন কোনো তথ্যের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাইনি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ থাকলে আমাকে দেখান, আমি যাচাই করে দেখব। আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেই তথ্যও সঠিক কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।’
একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ছয়জনের মৃত্যুর খবর প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, তথ্য নিশ্চিত না হয়ে কোনো খবর প্রচার করা উচিত নয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের যে তালিকা তাঁকে দেখানো হয়েছে, সেখানে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নেই। তাঁর কাছে থাকা আরেকটি তালিকাও যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মর্গের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে মর্গের তথ্যের সঙ্গে অন্য কিছু তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সব তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই প্রকৃত পরিস্থিতি ও হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানও সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি যাঁদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ছয়জনের মৃত্যুর তথ্যের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখন সেই তথ্যই যাচাই করার জন্য সবাই সরেজমিনে এসে তদন্ত করছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামার সময় কয়েকজন আহত হন।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের নতুন ভবনে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। মোট ১০টি ইউনিট সেখানে কাজ করে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরই আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগায় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ব্যাপ্তি বড় না হলেও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছিল। তবে হাসপাতালের নতুন ভবনটি থেকে দ্রুত বের হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ভবনটির পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে একটি খোলা ছিল বলে জানা গেছে। অন্য চারটি সিঁড়ি সব সময় তালাবদ্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনদের কয়েকজনও সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বাঁশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা দুলাল মিয়া গত বুধবার তার স্ত্রী জোসনা বেগমকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার দুই মেয়ে ও তিন নাতনি আহত হন। তাদের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নিচে নামতে না পেরে আতঙ্কের মধ্যে মেঝেতে অবস্থান করেন।
ফুলবাড়িয়ার সাথী বেগমও আজ বিকালে তার বাবাকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে পারছিলেন না। সিঁড়ির কয়েকটি ফটক বন্ধ থাকায় একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হন।
রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহসান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বৈঠক করেন। পরে সোয়া ১০টার দিকে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনের জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।








