শিরোনাম

এবার ডাকসুতে স্থান পেলো গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
এবার ডাকসুতে স্থান পেলো গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি
ডাকসু সংগ্রহশালায় সাঁটানো হচ্ছে গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার পর এবার সেখানে গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি সাঁটালো ছাত্র ফেডারেশন। ছবিটি আশির দশকের।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে আশির দশকের ওই ছবিটি সাঁটানো হয়।

ছবিতে বায়তুল মোকাররম এলাকায় গোলাম আজমের দিকে বাংলাদেশের ক্ষুব্ধ মানুষের জুতা নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।

এ জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা ডাকসুতে প্রবেশ করে সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর ছবিটি খুলে নেন। এ সময় তাদের হাত থেকে নিয়ে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। এ সময় ছবিটি মেঝেতে আছাড় দিয়ে ফ্রেম ভেঙেও ফেলেন তিনি।

এর আগে সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা ডাকসুতে প্রবেশ করে সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর ছবিটি খুলে নেন। এ সময় তাদের হাত থেকে নিয়ে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। এ সময় ছবিটি মেঝেতে আছাড় দিয়ে ফ্রেম ভেঙেও ফেলেন তিনি। আবু তৈয়ব হাবিলদার ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘জিন্নাহ ইতিহাসের খলনায়ক, জাতীয় ভিলেন। ডাকসু নায়কের জায়গা। তাই ডাকসুতে তারা স্থান পেতে পারে না। এজন্য আমি জিন্নাহর ছবি ছিড়েছি, অপসারণ করেছি, ভেঙেছি। এই মেসেজ বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে, শিক্ষার্থীদের দিতে চাই যে, খলনায়কদের জায়গা ডাকসুতে নাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাই এবং সারা বাংলাদেশেও নাই। যারা এই ভিলেনদের ছবি টাঙিয়েছে তারাও ভিলেন।’

এর আগে ডাকসুর সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হয় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আলোচিত ওই ছবি। এর

এই ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে দ্রুত সময়ে ওই ছবি অপসারণের দাবি জানায়। সোমবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল জানায়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন- ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তী সময় আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্র সংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, সেই ডাকসু সংগ্রহশালায় ‘বিতর্কিত’ নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি স্থাপন- এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘অবিলম্বে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সেইসঙ্গে ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।’

তারা আরও জানান, ১৯৪৮ সালে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার জিন্নাহর ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ যেভাবে গর্জে উঠেছিল, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যে কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

/জেএইচ/