শিরোনাম

মৌলভীবাজারে দুই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যা

মৌলবীবাজার সংবাদদাতা
মৌলবীবাজার সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারে দুই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যা
নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে জেলার ২০টিরও অধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে কমলগঞ্জের ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী ইসলামপু ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রায় ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকালে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আরও অন্তত ৬টি গ্রাম প্লাবিত ও প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

বন্যার পানির স্রোতে এসব এলকায় কৃষকদের রোপিত ফসল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়তে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার দুই গুরুত্বপূর্ণ মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো কয়েকটি ঝুকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

স্থানীয়রা বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য চেষ্টা করেন। তবে পানি বেড়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। ফলে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির অতিরিক্ত চাপে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে।

বন্যা প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বন্যার বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর ভাঙনে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া বন্যার বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ঢল নেমে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানি থাকায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পানি নামলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটা নিরূপণ করা যাবে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকা ও মনু নদীর উজিরপুর এলাকা দিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাঁধায় ধলাই নদীর মখাবিলের এই অংশটুকুতে কাজ করানো সম্ভব হয়নি। বন্যা পরিস্থিতির ওপর আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি।

/জেএইচ/