ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুরবস্থা, ক্ষতির মুখে শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুরবস্থা, ক্ষতির মুখে শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়নকাজে ধীরগতির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পায়ন। দীর্ঘ যানজটে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি শিল্প-কারখানার কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অনেক অংশ এখন খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে বা গর্তে আটকে যায়। তখন কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়। গত বুধবার (৮ জুলাই) মহাসড়কটিতে ২০ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ৪-৫ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা।
মহাসড়কের এই দুরবস্থার বড় প্রভাব পড়েছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে। মাধবপুর থেকে হবিগঞ্জ সদর পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটার শিল্প করিডোরে প্রাণ-আরএফএল, স্কয়ার গ্রুপসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দীর্ঘ যানজটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা জানান, বেকারির মতো কিছু পণ্য ভোরের মধ্যেই বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু রাতে গাড়ি ছাড়লেও যানজটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিকাল বা সন্ধ্যার আগে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এতে নির্ধারিত দিনে পণ্য বিক্রি করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে সিলেটগামী ট্রাকের ভাড়া অন্যান্য রুটের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এতে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মহাসড়কের দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে চা শিল্পেও। শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত চা সময়মতো চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছাতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এর পাশাপাশি বন্দর ও গুদামে পণ্যের জট তৈরি হচ্ছে।
পর্যটন খাতও ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘ ও অনিশ্চিত সড়কযাত্রার কারণে অনেক পর্যটক সিলেট ভ্রমণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা এখন গাজীপুর বা নরসিংদীর মতো কাছাকাছি পর্যটন গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। এতে সিলেটের রিসোর্ট ও হোটেলগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর। সিলেট বিভাগের ৪ জেলা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এ মহাসড়কের ওপর নির্ভরশীল।
২০২১ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। যদিও প্রকল্প কার্যালয়ের তথ্য বলছে, মহাসড়কটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেট পর্যন্ত ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি ৮৯ লাখ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তা ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
দুই লেনের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এখন চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য উভয় পাশে নির্মাণ করা হবে ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত পৃথক সার্ভিস লেন। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, সাতটি ফ্লাইওভার বা ওভারপাস, ছয়টি রেলওয়ে ওভারব্রিজ, ৩৭টি ইউটার্ন, আটটি রাউন্ড অ্যাবাউট এবং ২৬টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
(সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান জানান, ২১০ কিলোমিটার সড়কের জন্য ৭টি জেলায় প্রায় ৮২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। ৪ থেকে ৫ বছর পার হলেও এখনো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ জমি প্রকল্পের হাতে আসেনি। সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন, মামলা, অভিযোগ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়েছে। এছাড়া কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় কয়েক মাস প্রকল্পের কাজও ধীর হয়ে পড়েছিল। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়নকাজে ধীরগতির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পায়ন। দীর্ঘ যানজটে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি শিল্প-কারখানার কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অনেক অংশ এখন খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে বা গর্তে আটকে যায়। তখন কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়। গত বুধবার (৮ জুলাই) মহাসড়কটিতে ২০ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ৪-৫ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা।
মহাসড়কের এই দুরবস্থার বড় প্রভাব পড়েছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে। মাধবপুর থেকে হবিগঞ্জ সদর পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটার শিল্প করিডোরে প্রাণ-আরএফএল, স্কয়ার গ্রুপসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দীর্ঘ যানজটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা জানান, বেকারির মতো কিছু পণ্য ভোরের মধ্যেই বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু রাতে গাড়ি ছাড়লেও যানজটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিকাল বা সন্ধ্যার আগে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এতে নির্ধারিত দিনে পণ্য বিক্রি করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে সিলেটগামী ট্রাকের ভাড়া অন্যান্য রুটের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এতে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মহাসড়কের দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে চা শিল্পেও। শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত চা সময়মতো চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছাতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এর পাশাপাশি বন্দর ও গুদামে পণ্যের জট তৈরি হচ্ছে।
পর্যটন খাতও ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘ ও অনিশ্চিত সড়কযাত্রার কারণে অনেক পর্যটক সিলেট ভ্রমণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা এখন গাজীপুর বা নরসিংদীর মতো কাছাকাছি পর্যটন গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। এতে সিলেটের রিসোর্ট ও হোটেলগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর। সিলেট বিভাগের ৪ জেলা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এ মহাসড়কের ওপর নির্ভরশীল।
২০২১ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। যদিও প্রকল্প কার্যালয়ের তথ্য বলছে, মহাসড়কটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেট পর্যন্ত ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি ৮৯ লাখ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তা ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
দুই লেনের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এখন চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য উভয় পাশে নির্মাণ করা হবে ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত পৃথক সার্ভিস লেন। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, সাতটি ফ্লাইওভার বা ওভারপাস, ছয়টি রেলওয়ে ওভারব্রিজ, ৩৭টি ইউটার্ন, আটটি রাউন্ড অ্যাবাউট এবং ২৬টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
(সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান জানান, ২১০ কিলোমিটার সড়কের জন্য ৭টি জেলায় প্রায় ৮২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। ৪ থেকে ৫ বছর পার হলেও এখনো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ জমি প্রকল্পের হাতে আসেনি। সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন, মামলা, অভিযোগ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়েছে। এছাড়া কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় কয়েক মাস প্রকল্পের কাজও ধীর হয়ে পড়েছিল। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুরবস্থা, ক্ষতির মুখে শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়নকাজে ধীরগতির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পায়ন। দীর্ঘ যানজটে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি শিল্প-কারখানার কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অনেক অংশ এখন খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে বা গর্তে আটকে যায়। তখন কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়। গত বুধবার (৮ জুলাই) মহাসড়কটিতে ২০ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ৪-৫ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা।
মহাসড়কের এই দুরবস্থার বড় প্রভাব পড়েছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে। মাধবপুর থেকে হবিগঞ্জ সদর পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটার শিল্প করিডোরে প্রাণ-আরএফএল, স্কয়ার গ্রুপসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দীর্ঘ যানজটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা জানান, বেকারির মতো কিছু পণ্য ভোরের মধ্যেই বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু রাতে গাড়ি ছাড়লেও যানজটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিকাল বা সন্ধ্যার আগে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এতে নির্ধারিত দিনে পণ্য বিক্রি করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে সিলেটগামী ট্রাকের ভাড়া অন্যান্য রুটের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এতে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মহাসড়কের দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে চা শিল্পেও। শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত চা সময়মতো চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছাতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এর পাশাপাশি বন্দর ও গুদামে পণ্যের জট তৈরি হচ্ছে।
পর্যটন খাতও ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘ ও অনিশ্চিত সড়কযাত্রার কারণে অনেক পর্যটক সিলেট ভ্রমণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা এখন গাজীপুর বা নরসিংদীর মতো কাছাকাছি পর্যটন গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। এতে সিলেটের রিসোর্ট ও হোটেলগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর। সিলেট বিভাগের ৪ জেলা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এ মহাসড়কের ওপর নির্ভরশীল।
২০২১ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। যদিও প্রকল্প কার্যালয়ের তথ্য বলছে, মহাসড়কটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেট পর্যন্ত ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি ৮৯ লাখ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তা ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
দুই লেনের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এখন চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য উভয় পাশে নির্মাণ করা হবে ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত পৃথক সার্ভিস লেন। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, সাতটি ফ্লাইওভার বা ওভারপাস, ছয়টি রেলওয়ে ওভারব্রিজ, ৩৭টি ইউটার্ন, আটটি রাউন্ড অ্যাবাউট এবং ২৬টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
(সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান জানান, ২১০ কিলোমিটার সড়কের জন্য ৭টি জেলায় প্রায় ৮২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। ৪ থেকে ৫ বছর পার হলেও এখনো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ জমি প্রকল্পের হাতে আসেনি। সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন, মামলা, অভিযোগ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়েছে। এছাড়া কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় কয়েক মাস প্রকল্পের কাজও ধীর হয়ে পড়েছিল। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

ঈদযাত্রায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভোগান্তি


