শিরোনাম

বিটিআরসির সামনে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিটিআরসির সামনে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ
বিটিআরসি ভবন ঘেরাও করেন দেশের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থার সংস্কারসহ কয়েকটি দাবি তুলে এই কর্মসূচি পালন করেন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির নেতাকর্মীরা।

আজ রবিবার (০৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের আহ্বানে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিভিন্ন শপিংমলের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীরা। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করেন। তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

প্লাকার্ড হাতে বিটিআরসি ভবনের সামনে সড়ক অবরোধে এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
প্লাকার্ড হাতে বিটিআরসি ভবনের সামনে সড়ক অবরোধে এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

সংগঠনটির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যার মুখে থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে তারা এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চালাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের প্রধান তিনটি দাবি হলো— এনইআইআর ব্যবস্থার সংস্কার, মোবাইল ফোন বাজারে সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল করা এবং বৈধভাবে মোবাইল আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা।

বিটিআরসি ভবনের সামনে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
বিটিআরসি ভবনের সামনে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সেক্রেটারি আবু সায়ীদ পিয়াস বলেন, “আমরা বহুবার সরকারের কাছে আলোচনার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু একবারও কোনও পক্ষ থেকে আমাদের ডাকা হয়নি। আলোচনার টেবিলে বসলে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, সারাদেশের খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন।”

এর আগে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা এনইআইআর ব্যবস্থা সংস্কার এবং বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা বিলোপসহ কয়েকটি দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সব মোবাইল ফোন বিক্রির দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এই আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির উদ্যোগে।

বিটিআরসি ভবনের সামনে সড়কে শুয়ে পড়েন এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
বিটিআরসি ভবনের সামনে সড়কে শুয়ে পড়েন এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে লাখো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং বাজারে কৃত্রিমসংকট সৃষ্টি করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে।

মোবাইল ফোন আমদানি প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর প্রভাব ফেলবে। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে— এনইআইআর ব্যবস্থার সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং মোবাইল ফোন আমাদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ নভেম্বর পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর কারওয়ান বাজার-পান্থপথ এলাকায় বিভিন্ন শপিংমলের মোবাইল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা দোকান বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেন।

এদিকে, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে অনিবন্ধিত, চুরি হওয়া বা অনুমোদনবিহীনভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোন ব্যবহারযোগ্য হবে না।

নতুন এই ব্যবস্থার বাস্তবায়নের আগেই জোরালো আন্দোলনে নামেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।