শিরোনাম

আনিকার গোলটাই কি নারী ফুটবল ইতিহাসের দ্রুততম

আনিকার গোলটাই কি নারী ফুটবল ইতিহাসের দ্রুততম
মালদ্বীপের বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করার পর আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর উদযাপন, ২৮ মে ২০২৬।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অনন্য কীর্তি গড়লেন বাংলাদেশের মেয়েরা। মালদ্বীপের বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড গড়েছেন সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশি খেলোয়াড় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী।

ভারতের রেফারি কামানি রচনা ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজাতেই মালদ্বীপের জালে বল! কিক-অফ থেকে বল পেয়েই অধিনায়ক মারিয়া মান্দা উইঙ্গার ঋতুপর্ণ চাকমাকে নিখুঁত পাস দেন। ঋতুপর্ণ ডি-বক্সে বল দিতেই সেখানে ওৎ পেতে থাকা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান। ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ১১ সেকেন্ড।

যদিও সাফ কর্তৃপক্ষের থেকে অফিশিয়াল সময়টা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে অনফিল্ড হিসাবে ১১ সেকেন্ডে গোলটি হয়েছে। এর পর থেকেই হিসাব কষা শুরু হয়েছে এটা দ্রুততম গোলের বিশ্বরেকর্ড কিনা। যদিও এটা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড বলা যায়। কারণ ইতোপূর্বে এমন কোনো সংবাদ বাংলাদেশে দেখা যায়নি। বাফুফের পক্ষে থেকেও এমন কোনো রেকর্ডের কথা জানা যায়নি। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

ফুটবল ইতিহাসে বিভিন্ন পর্যায়ে দ্রুততম গোলের আলাদা রেকর্ড রয়েছে। অপেশাদার বা ঘরোয়া নন-লিগ ফুটবলে মাত্র ২.১ সেকেন্ডে গোল করে অনন্য রেকর্ড গড়েন স্কটল্যান্ডের গ্যাভিন স্টোকস। ২০১৭ সালে ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ড সুপার লিগে মেরিহিল এফসির হয়ে ক্লাইডব্যাংকের বিপক্ষে এই গোল করে তিনি অনন্য রেকর্ড গড়েন।

তবে শীর্ষ পর্যায়ের পেশাদার ফুটবলে উরুগুয়ের রিকার্দো অলিভেরার ২.৮ সেকেন্ডের গোলটিকেই গিনেস বুক সবচেয়ে দ্রুততম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর রিও নেগ্রো ক্যাপিটাল বনাম সোরিয়ানো ইন্টারিয়রের মধ্যকার একটি ম্যাচে মাঝমাঠ থেকে তিনি এই অবিস্মরণীয় গোলটি করেছিলেন।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ড্যামিয়ান মরি ১৯৯৫ সালে অ্যাডিলেড সিটির হয়ে সিডনি ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩.৬৯ সেকেন্ডে গোল করে অনন্য রেকর্ড গড়েন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন অস্ট্রিয়ার ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার। ২০২৪ সালে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তিনি মাত্র ৬ সেকেন্ডে গোল করেন। এর আগে ২০১৩ সালে জার্মানির লুকাস পোদলস্কিও ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৬ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন।

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড তুরস্কের হাকান শুকুরের দখলে। ২০০২ সালে দক্ষিণ কারিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে তিনি এই রেকর্ড গড়েন।

অন্যদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি শেন লংয়ের। ২০১৯ সালে সাউদাম্পটনের হয়ে ওয়াটফোর্ডের বিপক্ষে তিনি মাত্র ৭.৬৯ সেকেন্ডে গোল করেন।

নারী ফুটবল ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড স্কটিশ মিডফিল্ডার মারিয়া ম্যাকঅ্যানেনির দখলে। ২০২৫ সালে স্কটিশ নারী প্রিমিয়ার লিগে হাইবার্নিয়ান নারী দলের বিপক্ষে সেলটিকের হয়ে তিনি মাত্র ৪.১০ সেকেন্ডে গোল করেন।

তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে (নারী) দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিমোন ম্যাগিলের দখলে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জর্জিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে তিনি মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে অনন্য এই রেকর্ড গড়েন।

আর ২০২৬ সালের ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে ১১ সেকেন্ড গোল করে সেই রেকর্ড স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালেক্স মরগান ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোস্টারিকার বিপক্ষে ১২ সেকেন্ডে গোল করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

নারী বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি সুইডেনের লেনা ভিডেকুলের দখলে। ১৯৯১ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে তিনি এই রেকর্ড গড়েন।

অন্যদিকে অলিম্পিক নারী ফুটবলে দ্রুততম গোলের রেকর্ড কানাডার জেনিন বেকির। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি মাত্র ১৯ সেকেন্ডে গোল করেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম তিন ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ মালদ্বীপের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ার ম্যাচে কষ্টার্জিত জয় দিয়ে সাফের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেন মারিয়া মান্দারা।

ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ৪-২ গোলে মালদ্বীপকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই জয় বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না।

এর আগে ভারতের কাছে ১১-০ গোলের বড় পরাজয় বরণ করেছিল। এজন্য তাদের সঙ্গে জয় সহজ হবে বলে ধারণা করেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে দলটির বিপক্ষে তিন পয়েন্ট আদায় করতে গিয়ে রীতিমতো ঘাম ছোটাতে হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের।

ঋতুপর্ণাদের কাছে এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মালদ্বীপ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দলই একটি করে জয়ে ৩ পয়েন্ট অর্জন করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। আগামী ৩১ মে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গ্রুপ সেরা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ওই ম্যাচ ড্র হলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে ভারত।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার মাত্র ১১ সেকেন্ডেই গোল করেন আনিকা। এরপর ৩৪ মিনিটে উমেলাহ মারমা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তবে প্রথমার্ধের কোচের হাই লাইন ডিফেন্স কৌশলের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে গোলকিপার মিলির ভুল পজিশনিংয়ের সুযোগ নিয়ে এক গোল শোধ করে মালদ্বীপ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আফঈদা খন্দকারের রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মালদ্বীপের আমিনাত ফাজলা গোল করলে ২-২ সমতায় ফিরে আসে ম্যাচ।

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই গোলের পর মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের উল্লাস ছিল দেখার মতো। তবে মাত্র ছয় মিনিট পর ভাগ্য সহায় হয় বাংলাদেশের। মালদ্বীপ গোলরক্ষকের হাত থেকে ফসকে যাওয়া বলটি সুরভি আকন্দ প্রীতি গোলে পরিণত করেন। এর ফলে বাংলাদেশ ৩-২ গোলে এগিয়ে যায়। শেষদিকে ঋতুপর্ণা চাকমার কর্নার থেকে কোহাতি কিসকু গোল করলে বাংলাদেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

/জেএইচ/