শিরোনাম

সুন্দরবনে দস্যুদের কবল থেকে পালিয়ে ৩ দিন পর ঘরে ফিরলো কিশোর

খুলনা সংবাদদাতা
খুলনা সংবাদদাতা
সুন্দরবনে দস্যুদের কবল থেকে পালিয়ে ৩ দিন পর ঘরে ফিরলো কিশোর
নিখোঁজ মেহেদি হাসানকে খুঁজতে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদীতে ট্রলারে ঘুরে মাইকিং করা হয়

সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে দস্যুদের হাতে অপহৃত হয় মেহেদি হাসান নামের এক কিশোর। মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর আগেই দস্যুদের নৌকা থেকে পালিয়ে যায় সে। এরপর ৩ দিন ৩ রাত একা সুন্দরবনের নদী-খাল ও জঙ্গলে ঘুরে অবশেষে বাড়ি ফিরেছে।

মেহেদির বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার ৫ নম্বর কয়রা গ্রামে। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা বনকেন্দ্রিক। কেউ মাছ বা কাঁকড়া ধরেন, কেউ মধু কিংবা গোলপাতা সংগ্রহ করেন। বন্য প্রাণী ও জলজ সম্পদের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ। কিন্তু অভাবের তাড়নায় অনেকে তা মানেন না।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এমনই কয়েকজনের সঙ্গে কাঁকড়া ধরতে যায় মেহেদি। শাকবাড়িয়া নদী পেরিয়ে সুন্দরবনের জোলাখালী খালে কাঁকড়া ধরার সময় দস্যুরা তাদের নৌকা ঘিরে ফেলে। দস্যুরা মেহেদিকে নিজেদের নৌকায় তুলে নেয়। অন্যদের বলা হয়, বাড়ি ফিরে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ পাঠাতে। টাকা পেলেই মেহেদিকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে দস্যুদের দাবি মতো ২৫ হাজার টাকাও পাঠান। কিন্তু টাকা পৌঁছানোর আগেই সুযোগ বুঝে দস্যুদের নৌকা থেকে পালিয়ে যায় মেহেদি। এদিকে মেহেদির খোঁজে স্বজনদের উৎকণ্ঠাও বাড়তে থাকে। টানা ৩ দিন তারা নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের নদী-খাল চষে বেড়ান। রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে সবচেয়ে বড় অনুসন্ধান অভিযানে ৩টি ট্রলার ও ৬টি নৌকায় দেড় শতাধিক মানুষ বনের দিকে যান। এর মধ্যে ফিরে আসে মেহেদি।

এদিন বিকালে মেহেদিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে মানুষের ভিড়। ঘরের ভেতরে তখন গভীর ঘুমে মেহেদি। খালি গায়ে, পরনে শুধু লুঙ্গি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের কালশিটে দাগ, পা ফুলে আছে।

মেহেদির বাবা আবদুল্লাহ সরদার জানান, ডাকাতেরা ফোনে ২৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। তিনি টাকাও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এরইমধ্যে ছেলে পালিয়ে যায়। ৩ দিন সে ডাকাতদের হাতে জিম্মি ছিল, তারপর আরও ৩দিন একা বনের মধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিছুই খেতে পারেনি। ওকে অনেক মারধর করেছে। শরীর ফুলে গেছে।

বাড়ি ফেরার পর মেহেদি সবাইকে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। সে বলেছে, ৩ দিন দস্যুদের কাছে জিম্মি ছিল। প্রতিদিনই মারধর করা হতো। পরে নলবুনিয়া খালের ভেতর সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়। প্রথম দিন শুধু দৌড়েছে। একটু শব্দ হলেই মনে করেছে ডাকাতরা পেছনে আসছে। তাকে খোঁজার জন্য নৌকাও সে দূর থেকে দেখেছে। কিন্তু নৌকায় অনেক মানুষ দেখে ভেবেছে, ডাকাতরাই তাকে খুঁজছে। তাই আরও গভীর জঙ্গলে চলে যায়।

মেহেদির চাচা আবদুল বারী সরদার জানান, দস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান কয়েক দিন আগে কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়ার পর দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড আফজাল নিজের নামে বাহিনী পরিচালনা করছে। তার লোকজনই মেহেদিকে ধরে নিয়ে যায়।

/এফসি/