শিরোনাম

স্পেনকে রুখে রাতারাতি তারকা কেপ ভার্দের গোলরক্ষক

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
স্পেনকে রুখে রাতারাতি তারকা কেপ ভার্দের গোলরক্ষক
কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।

বিশ্বকাপের অভিষেক মঞ্চেই শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিয়ে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। সোমবার (১৫ জুন) রাতের ম্যাচে স্প্যানিশ আক্রমণভাগের একের পর এক প্রচেষ্টা নসাৎ করে দিয়ে গোলশূন্য ড্রয়ের নায়ক এখন ফুটবলবিশ্বের ভাইরাল হিরো। ম্যাচ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে যেখানে তার অনুসারী ছিল মাত্র ৫৬ হাজার, খেলা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তা অবিশ্বাস্য গতিতে ছাড়িয়ে গেছে ৫০ লাখের ঘর।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামা কেপ ভার্দের জন্য বিশ্বসেরাদের মুখোমুখি হওয়াটাই ছিল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় উপলক্ষ। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের মরিয়া আক্রমণের সামনে পোস্টের নিচে অটল ছিলেন ৪০ বছর বয়সী এ গোলরক্ষক। প্রতিপক্ষের নেওয়া ২৭টি শটের মুখোমুখি হয়ে ৭টি চোখধাঁধানো সেভ করেন তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। শিষ্যের এমন আবেগ নিয়ে দলের কোচ বুবিস্তা জানান, এ অশ্রু দীর্ঘ বছরের কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামেরই প্রতিফলন।

ভোজিনিয়ার ই রূপকথার পেছনের পথচলাটা ছিল বেশ দীর্ঘ ও কঠিন। কেপ ভার্দের ছোট শহর মিন্দেলোতে জন্ম নেওয়া এ ফুটবলারের শৈশবের স্বপ্ন ছিল স্ট্রাইকার হওয়া। এমনকি তার বাবা আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা হোর্হে ভালদানোর নামানুসারে তার নাম রাখতে চাইলেও সরকারি নিয়মের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তার নাম রাখা হয় ভোজিনিয়া। ২০০৭ সালে স্থানীয় ক্লাব বাতু দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে পর্তুগাল, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন তিনি। বর্তমানে এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক খেলছেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসে।

ক্লাব ফুটবলে খুব একটা পাদপ্রদীপের আলোয় না আসলেও জাতীয় দলের জার্সিতে ভোজিনিয়া বরাবরই আস্থার প্রতীক। চলতি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচের ৭টিতেই তিনি জাল অক্ষত রেখেছেন। ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল শুরু করা গোলরক্ষক ক্যারিয়ারে বহুবার খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত স্বপ্নের পেছনে ছুটে গেছেন। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে ভোজিনিয়া বলেন, আজ যদি ১৮ বছরের সেই তরুণ ভোজিনহার সাথে আমার দেখা হতো, তবে তাকে বলতাম নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে। এ একটি মুহূর্তের জন্য আমি সারা জীবন অপেক্ষা করেছি। স্বপ্নের পেছনে লেগে থাকার এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়, পুরো দলের।

/এমএকে/