শিরোনাম

চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনি খাওয়া ২ বিএনপি নেতার পদ স্থগিত

বরিশাল সংবাদদাতা
বরিশাল সংবাদদাতা
চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনি খাওয়া ২ বিএনপি নেতার পদ স্থগিত
বিএনপি নেতা জাকির মোল্লা ও আব্দুর রাজ্জাক।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা দাবির অভিযোগে গণপিটুনি খাওয়া দুই বিএনপি নেতার দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন– চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান ওরফে জাকির মোল্লা এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন ওই দুই নেতা। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল। গতকাল সোমবার রাতে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্তদের দেখা করতে বলে। টাকার লোভে অভিযুক্তরা সেখানে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের ঘিরে ফেলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা দুই নেতাকে আটক করে মারধর করে। পরে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না—এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে অর্থ দাবি, খালের মাটি বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দুই নেতার দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা অনিয়মের স্থান নেই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ওরফে জাকির মোল্লা। তিনি দাবি করেন বলেন, ‘আমরা কোনো চাঁদা দাবি করিনি। বালু ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার বিষয়ে আলোচনা ছিল। আমাদের পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে ফাঁসানো হয়েছে।’

/এফআর/