শিরোনাম

কেপ ভার্দে গোলরক্ষকের অনন্য রেকর্ড

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
কেপ ভার্দে গোলরক্ষকের অনন্য রেকর্ড
স্পেনের সামনে ম্যাচ জুড়ে দুভের্দ্য প্রাচীর হয়ে ছিলেন কেপ ভার্দে গোলরক্ষক জোসে ইভোরা দিয়াস। ছবি: বিবিসি

আটলান্টা স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দিল আফ্রিকার নবাগত দেশ কেপ ভার্দে। টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার ও পরাশক্তি স্পেনের একের পর এক আক্রমণ বুক চিতিয়ে রুখে দিয়ে গোলশূন্য ড্রয়ের এক ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে দলটি। আর বিশ্বমঞ্চে স্প্যানিশদের স্তব্ধ করে দেওয়ার এ মহাকাব্যের একক নায়ক ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জোসিমার জোসে ইভোরা দিয়াস। যিনি ‘ভোজিনিয়া’ নামেই ফুটবল দুনিয়ায় বেশি পরিচিত।

ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। রদ্রি, পেদ্রি, গাভি, লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী স্প্যানিশ আক্রমণভাগ কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তবে গোলপোস্টের নিচে দুর্ভেদ্য এক প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে তোরেসের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলের নিশ্চিত সুযোগও দুর্দান্ত দক্ষতায় নসাৎ করেন তিনি। বিরতির ঠিক আগে লাপোর্তের দারুণ এক হেডও রুখে দেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের আক্রমণের চাপ আরও বাড়লে পুরো ম্যাচে তারা প্রায় ৭৪ শতাংশ বল দখলে রেখে মোট ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৮টি ছিল লক্ষ্যভেদী। কিন্তু পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইস, মেরিনো ও কুকুরেয়াদের একের পর এক জোরালো শট অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের জাল অক্ষত রাখেন ভোজিনিয়া। ম্যাচজুড়ে অন্তত ৭টি চোখধাঁধানো সেভ ও গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে স্পেনের ২.২৯ এক্সপেক্টোল এবং ৮০০টির বেশি পাসের পুরো প্রচেষ্টাকেই ব্যর্থ করে দেয় কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ।

এ অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেকে ক্লিনশিট রাখার এক অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। একই সঙ্গে ১৯৮৬ সালে প্যাট জেনিংসের পর প্রথম চল্লিশোর্ধ্ব গোলরক্ষক হিসেবে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ডবুকেও নিজের নাম লেখান। অথচ এ আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের বাস্তব চিত্র। শৈশবে দাদা-দাদির কাছে বড় হওয়া এ ফুটবলারের ডাকনাম ‘ভোজিনিয়া’, যার অর্থ ‘ছোট দাদি’। দারিদ্র্য ও তীব্র অনিশ্চয়তা পেরিয়ে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত কেবল ঘরোয়া লিগে খেলা এই গোলরক্ষক পরবর্তীতে পর্তুগালের জিডি শাভেসসহ আঙ্গোলা, সাইপ্রাস, মলদোভা ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন লিগে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অবশেষে ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের এই আপাত সাধারণ গোলরক্ষকই বিশ্বমঞ্চে লিখলেন এক অনন্য ও রূপকথার গল্প।

/এমএকে/