শিরোনাম

তিউনিসিয়াকে বিধ্বস্ত করে উড়ন্ত শুরু সুইডেনের

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
তিউনিসিয়াকে বিধ্বস্ত করে উড়ন্ত শুরু সুইডেনের
মাঠে নেমেই গোল দেওয়ার পর মাতিয়াস সভানবার্গের উদযাপন।

মেক্সিকোর মন্তেরি স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সাথে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে সুইডেন। 'এফ' গ্রুপের এ ম্যাচে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নেয় সুইডিশরা।

পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পশরা সাজিয়ে দলের হয়ে জোড়া গোল করেন ইয়াসিন আয়ারি। এছাড়া একটি করে গোল অবদান রাখেন আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও মাতিয়াস সভানবার্গ। তিউনিসিয়ার পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন ওমর রেকিক। এ বিধ্বংসী জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এক ম্যাচে পাঁচ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়ল সুইডেন।

ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে সুইডেন। এর ফলশ্রুতিতে সপ্তম মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে নেন ইয়াসিন আয়ারি। নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার আইজাক। বল দখল ও আক্রমণ সবখানেই সুইডিশরা এগিয়ে থাকলেও রক্ষণ সামলে কাউন্টার অ্যাটাকের খোঁজে ছিল তিউনিসিয়া। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৪৩তম মিনিটে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে এক গোল শোধও করে তারা। হানিবাল মেজব্রির বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে হেডে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ২-১ করেন ওমর রেকিক। এ গোলে তিউনিসিয়ান শিবিরে ম্যাচে ফেরার আশা জাগলেও বিরতির পর আর দাঁড়াতেই পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯তম মিনিটে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে সুইডেনকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। গোলকিপার শামাখ হাত দিয়ে বল বাড়িয়েছিলেন স্খিরির উদ্দেশ্যে, কিন্তু সেখানে ওত পেতে থাকা ইসাক ক্ষীপ্র গতিতে বল কেড়ে নিয়ে পাস দেন ইয়োকেরেসকে। কোনো ভুল না করে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন আর্সেনালের এ ফরোয়ার্ড। এরপর সুইডেনের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে গেলে তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডাররা চরম হিমশিম খেতে থাকেন। ৮৫তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মাথায়, প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান মাতিয়াস সভানবার্গ। শুরুতে সহকারী রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজালেও সুইডিশ খেলোয়াড়দের দাবির মুখে দীর্ঘ সময় ধরে ভিএআর পরীক্ষা করা হয়। রেফারি ও ভিএআর কক্ষের মধ্যকার যোগাযোগ বিভ্রাটের কারণে মাঠে কিছুটা হাস্যকর ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত গোলের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯০+৬ মিনিট) নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করে তিউনিসিয়ার বড় পরাজয় নিশ্চিত করেন ইয়াসিন আয়ারি। এ গোলের পরপরই রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজান। উল্লেখ্য, বিশ্বমঞ্চে সুইডেনের সবচেয়ে বড় জয়টি এসেছিল ১৯৩৮ সালে, যখন তারা কিউবাকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল।

/এমএকে/