শিরোনাম

সদকাতুল ফিতরা: কার জন্য ওয়াজিব, কখন দেওয়া উত্তম

সিটিজেন ডেস্ক
সদকাতুল ফিতরা: কার জন্য ওয়াজিব, কখন দেওয়া উত্তম
গ্রাফিক্স: সিটিজেন জার্নাল

পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুসলমানদের ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। ইসলামী শরিয়তে এটি এমন একটি ইবাদত, যা রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্রতা লাভ এবং দরিদ্র মানুষের সহায়তার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়েছে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব। তবে চাইলে এর আগেও ফিতরা দেওয়া যায়। বরং দরিদ্র মানুষের উপকারের কথা বিবেচনায় ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম বলে আলেমরা মনে করেন।

পবিত্র কুরআনে সদকাতুল ফিতরের প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে সে, যে পরিশুদ্ধ হয়।’ (সুরা আলা, আয়াত ১৪)

হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত মুহাম্মদ (সা.) সদকাতুল ফিতরকে ফরজ করেছেন রোজাকে ভুল-ত্রুটি থেকে পবিত্র করা এবং দরিদ্রদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে।

তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করবে, তা কবুলযোগ্য ফিতরা হিসেবে গণ্য হবে; আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পরে আদায় করবে, তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে।‘(জামেউল ফাওয়ায়েদ)

কার ওপর ফিতরা ওয়াজিব

সদকাতুল ফিতরা সবার জন্য ওয়াজিব নয়। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন সকালে যে ব্যক্তির কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর ফিতরা আদায় করা বাধ্যতামূলক।

নিসাবের পরিমাণ হলো– সাড়ে সাত ভরি সোনা, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ। এর মধ্যে ব্যবসার পণ্য, বসবাসের প্রয়োজন নেই এমন জমি, অতিরিক্ত বাড়ি বা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

যার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তাকে নিজের পক্ষ থেকে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে হবে।

তবে যাকাতের মতো ফিতরার ক্ষেত্রে এক বছর ধরে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা শর্ত নয়। বরং ঈদের দিন সকালে এই পরিমাণ সম্পদ থাকলেই তার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

/এসএ/