শিরোনাম

শুধু অংশগ্রহণ নয়, বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
শুধু অংশগ্রহণ নয়, বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই একসময় অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা ভারতের মতো পরাশক্তিদের আধিপত্য আর বাংলাদেশের কেবলই আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু সেই দৃশ্যপট এখন দ্রুত পাল্টাচ্ছে। কেবল অংশগ্রহণকারী দল হিসেবে থাকার বৃত্ত ভেঙে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এখন বিশ্বমঞ্চে ম্যাচ জেতা এবং প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পর্দা উঠেছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন আসরের। রবিবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করছে টাইগ্রেসরা।

এবারের আসরটি বেশ কিছু কারণে আগের চেয়ে আলাদা ও জমকালো। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২টি, যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এ টুর্নামেন্টের পুরষ্কারের অর্থ। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য পূর্বের মতোই ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৮ থেকে ৩০ কোটি টাকা) বরাদ্দ থাকলেও, টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি বা পুরস্কার তহবিল এবার দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৮৮ লাখ ডলারের বেশিতে। রানার্সআপ দল পাবে ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং সেমিফাইনালে ওঠা প্রতিটি দলের পকেটে যাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেলেও প্রতিটি দলের জন্য ২ লাখ 8৭ হাজার ৫০০ ডলারের নিশ্চিত আর্থিক পুরস্কার থাকছে। প্রতি ম্যাচ জয়ের জন্য বোনাস হিসেবে যোগ হবে আরও ৩১ লাখ ১৫৪ ডলার।

আর্থিক এ কাঠামোর চেয়েও বাংলাদেশের জন্য মাঠের সমীকরণ ও নিজেদের লক্ষ্য প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। এমন কঠিন গ্রুপে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য কি শুধুই অংশগ্রহণ নাকি বড় কোনো চমক, সেই প্রশ্ন এখন ক্রিকেটপাড়ায় জোরালো। বিগত ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ দল ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। যদিও সেবার নকআউট পর্বে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ওই জয়টি মেয়েদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে যে বিশ্বমঞ্চে তারা কেবল লড়াই করতেই আসে না, বরং ম্যাচ জেতার ক্ষুধা ও ক্ষমতা দুটোই তাদের আছে।

এবারের আসরে বাংলাদেশের মূল পরীক্ষা কেবল একটি জয় পাওয়া নয়। একাধিক ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের আলোচনায় নিজেদের নিয়ে যায় বাংলাদেশ। আর এ লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে দলের ব্যাটিং বিভাগকে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেশ সমালোচনা চলছে। পাওয়ারপ্লেতে মন্থর ব্যাটিং, ডেথ ওভারে দ্রুত রান তোলার খরা কিংবা চাপের মুখে ভেঙে পড়ার যে পুরোনো রোগ, তা থেকে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট আভাস মিলছে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে। এ ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম কাণ্ডারি জামালপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা তরুণ অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার। শৈশবে ভাইদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে কেবল মেয়ে হওয়ার কারণে মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে বল কুড়িয়ে দেওয়া স্বর্ণা এখন জাতীয় দলের অন্যতম বড় ভরসা। প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম থেকে স্পিনার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও, বর্তমান ক্রিকেটে তার মূল পরিচয় একজন বিগ হিটার হিসেবে।

অবশ্য স্বপ্ন পূরণের পথে ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ইংলিশ কন্ডিশনে নতুন বলের সুইং ও মুভমেন্ট সামলানো এবং উপমহাদেশের তুলনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ব্যাটারদের নিতে হবে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে সুযোগ যেহেতু সীমিত থাকবে, তাই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগানোই হবে মূল চাবিকাঠি। প্রথমবারেই হয়তো শিরোপার স্বপ্ন দেখা বাস্তবসম্মত নয়, তবে গ্রুপ পর্বে লড়াই করে অন্তত দুটি জয় তুলে নেওয়া কিংবা শেষ চারের দৌড়ে টিকে থাকা এখন আর অসম্ভব কোনো কল্পনা নয়। অতীতের প্রস্তুতির ঘাটতি, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অভাব কিংবা দীর্ঘ বিরতির মতো প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে বাছাইপর্ব পার হয়ে আসা বাংলাদেশ দল এবার বিশ্বকে দেখাতে চায়, তারা আর কেবলই অংশগ্রহণকারী কোনো দল নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের অভিজাত তালিকায় নিজেদের স্থায়ী জায়গা করে নিতেই তারা এবার মাঠে নামছে।

/এমএকে/