শিরোনাম

গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ
রবিবার দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা, অর্থনীতি, জনপ্রশাসনসহ নানা খাতে সংস্কার, পুনর্গঠন ও ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।

বিএনপি জোটে থাকা দলটি বলছে, দেশ শাসনের সুযোগ পেলে তারা সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে নাগরিকদের অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা নিশ্চিত করা; প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা; নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের’ উদ্যোগ নিতে চায়।

দলটির দাবি, গণসংহতি আন্দোলনের এই ইশতেহার কেবল কিছু প্রতিশ্রুতির সমাহার নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিশা।

আবুল হাসান বলেন, বাংলাদেশকে নতুন করে গঠন করার যে সম্ভাবনা হাজির হয়েছে, তা বাস্তবায়নের পথনকশা (এই ইশতেহার)। এখানে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি একটা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়, যেখানে রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সম্পদের বণ্টনেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুশীলনের মাধ্যমে দুর্নীতি দূর করে সুশাসন কায়েম করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা গুরুত্ব দিয়েছি এদেশের শ্রমিক কৃষক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, লিঙ্গের ভিত্তিতে যে বৈষম্য, সেই বৈষম্যের অবসানের বিষয়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা রূপান্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে এসে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করায় গুরুত্ব দিয়েছি।

ইশতেহারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে অর্থনীতির উৎপাদনশীল রূপান্তর, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে কৃষির বিকাশ, সব শিশুর জন্য নিরাপদ সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থাসহ জাতীয় আয়োজনে ভবিষ্যৎমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, 'চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা যাবে না'–এই নীতির ভিত্তিতে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক।

গণসংহতি আন্দোলনের ইশতেহারে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও ক্ষমতায়ন, নারীর সমমর্যাদা অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশের প্রকৃতিকে সুরক্ষায় সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকৃতির সুরক্ষার প্রশ্নটিকে প্রাধান্য দেওয়া, নদী, খাল, বনভূমি, দখল ও দূষণ মুক্ত করা, প্রকৃতির ন্যায্য হিসসা আদায়, প্রকৃতি উপযোগী নগরায়নে অগ্রাধিকারের কথাও বলা হয়েছে।

এসময় অন্যদের মধ্যে দলের সদস্য সচিব ও দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী ও রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আমজাদ হোসেন, বেলায়েত শিকদার, অঞ্জন দাসসহ অনেকে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ জন প্রার্থী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

/এসএ/